এক সময় তিন ফরম্যাটেই ভারতের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। এখন শুধু এক দিনের ফরম্যাটই খেলেন। তিন ফরম্যাট থেকেই অধিনায়কত্ব গিয়েছে। বদলে এসেছেন দুই নতুন অধিনায়ক। সেই দুই অধিনায়ক শুভমন গিল (টেস্ট ও এক দিন) ও শ্রেয়স আয়ারকে (টি-টোয়েন্টি) খুশি রাখতে হয়। এমনটাই জানালেন রোহিত শর্মা। কারণও ব্যাখ্যা করলেন তিনি।
নিজের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ফ্যামিলি ফুল হাউস উইথ রোহিত শর্মা’-তে এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন রোহিত। তিনি বলেন, “ওরা দু’জনেই এখন ভারতের অধিনায়ক। এখন অবশ্য আমি শুধু এক দিনের ক্রিকেট খেলছি। তাই শুভমন আমার অধিনায়ক। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ খেলতে চাই। তাই ওকে তো খুশি রাখতেই হবে।”
কিন্তু ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ছোট ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়েছেন রোহিত। তা হলে শ্রেয়সকে খুশি রাখতে হয় কেন? জবাবে রোহিত বলেন, “২০২৭ বিশ্বকাপের পর যদি আবার টি-টোয়েন্টি দলে ফিরতে চাই, তার জন্য তো শ্রেয়সকেও খুশি রাখতে হবে। ওদের দু’জনকেই আমার দরকার।”
এই কথা বলে অবশ্য নিজেই হেসে ফেলেন রোহিত। তাঁকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, মজা করে এগুলি বলছেন তিনি। এক দিনের ক্রিকেট ছাড়া যে অন্য কিছু তিনি ভাবছেন না, তা রোহিতকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে। এখন শুধু ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের কথা ভেবে নিজেকে তৈরি রাখছেন তিনি। কিন্তু তার মাঝেই মজা করতে দেখা গেল রোহিতকে।
চলতি বছর ইংল্যান্ড সিরিজ় চলাকালীন রোহিতের অবসর নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। এক দিনের সিরিজ় চলাকালীন তৎকালীন নির্বাচক প্রধান অজিক আগরকর নাকি রোহিতকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ২০২৭ এক দিনের বিশ্বকাপের জন্য তাঁকে ভাবা হচ্ছে না। রোহিত এই ঘটনার পর বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার পরেই বোর্ড সচিব দেবজিৎ শইকীয়া জানিয়ে দেন, রোহিতের অবসরের এখনই কোনও সম্ভাবনা নেই।
এই ঘটনার পর বোর্ডের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় আগরকরের। তাঁর চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর কথা থাকলেও তিনি তা করেননি। বোর্ডও তাঁকে আটকায়নি। আগরকরের পর রমেশ পওয়ারকে পশ্চিমাঞ্চলের নির্বাচক করা হয়। প্রধান নির্বাচক হন প্রজ্ঞান ওঝা।
রোহিত ও ওঝা দীর্ঘ দিন একসঙ্গে খেলেছেন। ফলে রোহিতের উপর প্রধান নির্বাচকের চাপ আর থাকবে না। বরং প্রধান নির্বাচককে তিনি পাশে পাবেন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। এই পরিস্থিতিতে ফর্ম খারাপ না হলে তাঁর ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ খেলার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না বলেই মত তাঁদের। তাই এখন খোশমেজাজে দেখা যাচ্ছে রোহিতকে।
