এদিকে লুলার জয়কে দ্রুত স্বীকৃতি দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, কানাডা, মেক্সিকো, ভারত, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে রেকর্ড চতুর্থ মেয়াদ নিশ্চিত করেছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। স্থানীয় সময় রোববারের রানঅফ নির্বাচনে ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করেন তিনি। প্রথম দফার ভোটে পিছিয়ে থাকার পরও ঘুরে দাঁড়িয়ে ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন লুলা। আগামী ৫ জানুয়ারি নতুন মেয়াদে দায়িত্ব নেবেন তিনি। দুদিন পর ৮১ বছরে পা দিতে যাওয়া লুলা এরই মধ্যে ব্রাজিলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রেসিডেন্ট।
তবে নির্বাচনের ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো। ভোটের সময় ২ ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফল বাতিলের আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ভোটার পরিবহনে অনিয়মের অভিযোগের পর লুলার নিয়োগ দেয়া সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি ভোটের সময় বাড়িয়েছিলেন।
ফ্লাভিও বলেন, যে পরিস্থিতিতে নির্বাচন হয়েছে তাতে ফল মেনে নেয়া সম্ভব নয়। যদিও লুলার তুলনায় তিনি ৪০ লাখের বেশি ভোটে পিছিয়ে থাকায় তার আইনি চ্যালেঞ্জ সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তার প্রচার শিবিরও ভারি বৃষ্টির কারণে দক্ষিণাঞ্চলে ভোটের সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিল।
এদিকে লুলার জয়কে দ্রুত স্বীকৃতি দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, কানাডা, মেক্সিকো, ভারত, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, ব্রাজিল ও ফ্রান্সের একসঙ্গে অনেক কিছু করার আছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেছেন, ব্রাজিলে গণতন্ত্র ও বহুপাক্ষিকতার জয় হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
লুলার অপ্রত্যাশিত জয়ের পর ব্রাজিলের আর্থিক বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা নতুন সরকারের রাজস্বনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্রাজিলিয়ান রিয়ালের নভেম্বর ফিউচার ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। দেশটির শেয়ারবাজারভিত্তিক আইশেয়ার্স এমএসসিআই ব্রাজিল ইটিএফও প্রি-মার্কেট লেনদেনে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে।
লুলার জন্য চতুর্থ মেয়াদটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নতুন কংগ্রেসে বলসোনারোপন্থী ও ডানপন্থীদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। দেশটি গণতন্ত্রে ফেরার পর এটিই সবচেয়ে রক্ষণশীল কংগ্রেস। উভয় কক্ষেই বলসোনারোর দল ও তার মিত্রদের প্রভাব থাকায় সরকারকে আইন পাস ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে হতে পারে।
অর্থনীতিও লুলার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী বছর ব্রাজিলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে সরকারি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। উচ্চ সুদহারের পাশাপাশি সরকারি ঋণ এরই মধ্যে জিডিপির ৮২ শতাংশ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি হারে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো ও সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন লুলা।
জয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে লুলা বলেন, ‘সবাই নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে পছন্দ করতে বাধ্য নয়, তবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সবার জন্যই দেশ পরিচালনা করতে হয়।’ তিনি আগেই জানিয়েছেন, এটিই তার শেষ নির্বাচন।
