চলতি বছরে ভাঁজ করা ডিভাইস ‘আইফোন ডুয়ো’ বাজারে এনে হইচই ফেলে দিয়েছে অ্যাপল। অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আনা অন্যতম বড় পণ্য এটি। ইতিমধ্যেই বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে ডিভাইসটির। তবে সেই ডিভাইস নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অভিযোগও বাড়ছে। গ্রাহকদের একাংশের মতে, ব্যবহারের কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের মধ্যেই ফোনটির ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লেতে ফাটল দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, ফোনটি খোলার সময় তাঁরা একটি ‘মড়মড়’ শব্দ শুনতে পেয়েছেন এবং এর পরই ডিভাইসটির মাঝখানের ভাঁজ বরাবর বড় একটি ফাটল তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া কিছু ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে স্ক্রিনের ডান দিকে সাদা দাগ বা ডিসপ্লেতে অন্যান্য ত্রুটি দেখা দিয়েছে বলেও দাবি। এই সমস্যার কথা প্রথম রেডিট এবং অন্যান্য সমাজমাধ্যমে উঠে আসে। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়তেই সংবাদমাধ্যম ‘ব্লুমবার্গ নিউজ়’ ছ’জনেরও বেশি গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ডিভাইসের ছবি এবং অ্যাপলের সহায়তা কেন্দ্রের সঙ্গে গ্রাহকদের কথোপকথনের প্রমাণও উপস্থাপন করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
এক বিবৃতিতে সমস্যা দেখা দেওয়ার কথা স্বীকার করে অ্যাপল জানিয়েছে, তারা ‘আইফোন ডুয়ো’র অল্প কিছু ইউনিটের ভিতরের ডিসপ্লেতে সমস্যা হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। ক্যালিফোর্নিয়ার অবস্থিত সংস্থাটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘যদি কোনও ব্যবহারকারী তাঁদের ‘আইফোন ডুয়ো’-র ডিসপ্লে নিয়ে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হন, তবে তাঁদের উচিত ‘অ্যাপলকেয়ার’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিভাইসটি বদলে নেওয়া।’’ অ্যাপলের দাবি, অধিকাংশ ‘ডুয়ো’ ডিভাইসে এই সমস্যা নেই। আর যে সব ডিভাইসে সমস্যাটি দেখা দিচ্ছে, সেগুলিতে খুব দ্রুতই ত্রুটিটি ধরা পড়ছে।
এ প্রসঙ্গে সান দিয়েগোর বাসিন্দা এবং অ্যাপল গ্রাহক টম ব্যাটল ব্লুমবার্গকে বলেন, ‘‘আমি যখন ফোনটি খোলার চেষ্টা করলাম, তখন মনে হল সেটি আটকে গিয়েছে অথবা স্বাভাবিকের চেয়ে খুলতে বেশি কষ্ট হচ্ছে বা ধীরগতি কাজ করছে। আর খোলার পর দেখলাম স্ক্রিনে দাগ পড়ে গিয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ডিসপ্লের নীচে কোনও কিছু উঁচু হয়ে আছে বা কোনও অংশ আলগা হয়ে গিয়েছে বলে মনে হচ্ছিল।’’
অন্য এক অ্যাপল গ্রাহক তথা ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট জোনাথন কিঙের অভিজ্ঞতাও ছিল একই রকম। তিনি জানান, সোমবার তাঁর ডিভাইসটি খোলার সময় তিনি একটি খটখট শব্দ শুনতে পান। কিং বলেন, ‘‘আজ আমার ‘ডুয়ো’ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি ইতিবাচক পর্যালোচনা লেখার পূর্ণ ইচ্ছা ছিল। কিন্তু ঠিক তখনই এই ঘটনাটি ঘটল। বাইরের ছোট স্ক্রিনটি ঠিকঠাক কাজ করলেও ভিতরের বড় স্ক্রিনটি এখন আর ব্যবহারের উপযোগী নেই।’’
উল্লেখ্য, শুক্রবার বাজারে আসা আইফোন ‘ডুয়ো’ অ্যাপলের প্রথম ‘ফোল্ডেবল’ বা ভাঁজ করা যায় এমন ডিভাইস। এটি আইফোনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নকশা পরিবর্তনের সাক্ষী। অন্যান্য ফোল্ডেবল ফোনের মতো এই ডিভাইসের বাইরের দিকে একটি ছোট স্ক্রিন রয়েছে এবং ফোনটি খুললে ভিতরে একটি বড় ডিসপ্লে বেরিয়ে আসে। সংস্থার সিই জন টার্নাস এর আগে প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রয়েড ফোল্ডেবল ফোনগুলিকে ‘সস্তা এবং বাজে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। সেই আবহে এ বার ‘আইফোন ডুয়ো’ নিয়েই অভিযোগের পাহাড় জমা হচ্ছে গ্রাহকদের মনে।
আরও পড়ুন:
যদিও সমস্যাটি কেবল কিছু নির্দিষ্ট ডিভাইসেই দেখা দিচ্ছে, তবুও এটি অ্যাপলের জন্য একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি। কারণ, এই ডিভাইসটি তৈরির পিছনে সংস্থাটি এক দশকেরও বেশি সময় ব্যয় করেছে। ডিভাইসটির উন্নত স্থায়িত্ব, কব্জার নকশা এবং ডিসপ্লে প্রযুক্তি নিয়ে ঝোড়ো প্রচারও চালিয়েছিল সংস্থাটি।
