এ হয়রানিমূলক মামলার জন্য আমরা তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া না হলে এর চেয়েও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাগারে আটক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অন্যায়ভাবে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সেদিন বিমানবন্দরে যাত্রীদের সঙ্গে করা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন। সেটিই কি তাঁর অপরাধ? সরকার তাঁর বিরুদ্ধে যে মামলা করেছে, তার কোনো ভিত্তি নেই বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, এ হয়রানিমূলক মামলার জন্য আমরা তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া না হলে এর চেয়েও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ছেলে সাব্বির জামান বলেন, তাঁর বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যিনি দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। বিচারপতি মানিক যখন জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন, তখন তাঁর বাবা প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় তিনি সব সময় সোচ্চার ছিলেন।
সাব্বির জামান বলেন, যাঁদের অবদানে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, তাঁদের একজনের সঙ্গে সরকারের এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। একজন ছিনতাইয়ের আসামি আদালতে তোলার পরপরই জামিন পেলেও ৭৬ বছর বয়সী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ২৬ দিন ধরে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। তাঁকে যে আইনে আটক রাখা হয়েছে, তার পক্ষে সরকার এখনো কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের পক্ষে বিমানবন্দরে প্রতিবাদ করায় তাঁর বাবাকে মামলায় আটক রাখা হয়েছে। অথচ তাঁর সেই প্রতিবাদের পর বিমানবন্দরের লাগেজ এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মানববন্ধনে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ড. ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জাতির একজন শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা, অবসরপ্রাপ্ত মেজর ও সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামানকে হয়রানিমূলক মামলায় আটক রাখা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, মেজর আখতারুজ্জামান কি সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন? তিনি তো এমন কোনো অপরাধ করেননি। বরং বিমানবন্দরে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অধিকার আদায়ের দাবিতে প্রতিবাদ করায় তাঁকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে ধারায় মামলা করা হয়েছে, সেই অভিযোগের পক্ষে সরকার এখনো কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাঁকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। মেজর আখতারুজ্জামান স্বভাবতই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। তাঁর সেই প্রতিবাদী কণ্ঠ মামলা-হামলার মাধ্যমে থামিয়ে দেওয়া যাবে না।
ড. ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকারও প্রতিবাদী কণ্ঠকে দমনের চেষ্টা করেছিল। বর্তমান সরকারও সেই পথে হাঁটছে কি না, তা জানতে চায় দেশের মানুষ। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, হত্যাকারী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেপ্তার করা হয় না। অথচ জাতির সূর্যসন্তান মেজর আখতারুজ্জামানকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান-অপদস্ত করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার বলেন, ৫ আগস্টের গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত একটি সুন্দর রাষ্ট্র গঠন। প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের শাহাদাত এবং ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের আহত হওয়ার মধ্য দিয়ে সংঘটিত এ বিপ্লবের পর দেশের মানুষ এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, যেখানে কারও ওপর জুলুম করা হবে না এবং সবার কথা বলা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অধিকার থাকবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। অথচ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীরা বিমানবন্দরে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাঁদের লাগেজ থেকে মালামাল চুরি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। তিনি বলেছিলেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিমানবন্দরে যথাযথ সম্মান পান না এবং নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন।
আতাউর রহমান সরকার বলেন, এ প্রতিবাদের কারণেই তাঁকে হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মাথায় হেলমেট পরিয়ে আদালতে তোলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। অথচ অতীতে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আদালতে আনার ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ দেখা গেছে। মেজর আখতারুজ্জামানের সঙ্গে এমন আচরণ শুধু অন্যায় নয়, বরং বাড়াবাড়ি। এটি নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ সভাপতি,বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেহ উদ্দীননের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন,জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ (জামুপ) সিনিয়র সহ- সভাপতি মো. ফজলুল হক,জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজিরুল ইসলাম,জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য,মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ডা.ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক মোঃ আতাউর রহমান সরকার, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পরিষদ (জামুপ্রপ) মুখপাত্র শহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানের কনিষ্ঠ ছেলে মো. সাব্বির জামান, রিভাইভার স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ডা. মইন উদ্দিন
এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ (জামুপ) এর কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোঃ আব্দুল করিম,বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শফিকুল ইসলাম,বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হাকিম খান,বীর মুক্তিযোদ্ধা ডি এম শাহজাহান,বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইকরামুল হক
