নির্বাচনি সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন মির্জা ফয়সল আমীন (বাঁয়ে), বক্তব্য দেন দেলাওয়ার হোসেন। সম্প্রতি তোলা। ছবি: খবরের কাগজ
-->অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আর রাজনৈতিক নেতাদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিতে ১৮ দিন ধরে মুখরিত ছিল ঠাকুরগাঁও-১ আসন। উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঠাকুগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকায় বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যান। তাদের মন জয় করার চেষ্টা করেন। তফসিল অনুযায়ী আজ ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত ছিল নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার শেষ সময়। তাই গতকাল সোমবার সব দলের প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করেন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আবদুল আলীম নিজামী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হোসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক। তবে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির জেলা সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফয়সল আমীন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই সরগরম হয়ে ওঠে নির্বাচনি মাঠ। প্রচার-প্রচারণায় প্রার্থীরা কখনো একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, আবার কখনো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করেন। প্রচারের প্রথম থেকেই সরব ছিলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তবে মাঝেমধ্যে ভোটারদের সামনে উপস্থিত হতে দেখা গেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খাদেমুল ইমলামকে। তবে নির্বাচনি মাঠে দেখা যায়নি অন্য দুই প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুককে।
আরও পড়ুন
নির্বাচনি প্রচারে বেকারত্ব দূর করা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মির্জা ফয়সল আমীন। মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়েছেন তিনি। বলেছেন, মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। বেকারত্ব দূর করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে কাজ করতে চান তিনি। ভোটারদের সামনে তুলে ধরেছেন তার বড় ভাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বর্তমান রাষ্ট্রপতি) ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে গত ছয় মাসে ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য কী কী করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এসব বরাদ্দ দিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি হয়ে গেছেন। এখন তার কাজগুলো সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আমাকে ভোট দিয়ে সাহায্য করুন।’
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচিত হতে পারলে আমি আপনাদের জন্য খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করে দেব। মাদক নির্মূলে কাজ করব। ঠাকুরগাঁও শহরের চারপাশ দিয়ে একটি রিং রোড নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। এই সড়ক বাইপাস হিসেবে কাজ করবে। প্রতিটি উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে ভূমিকা রাখব।’
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘গত নির্বাচনের আগে তারা ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলেছিল। নির্বাচনে জেতার পর দেয়নি। এখন উপনির্বাচনেও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার গান শুরু করেছে। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিলেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলেও প্রচার করা হচ্ছে।’ দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি এমপি হতে পারলে শুধু রাষ্ট্রের বরাদ্দ নয়, বিদেশি বরাদ্দে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে কাজ করব। আগামী দিনের দুর্নীতিমুক্ত ঠাকুরগাঁও দেখতে চাইলে ভোট দিতে হবে দাঁড়িপাল্লায়।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ভোটাররা যেন ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সেই লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
