চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে নামার আগে প্র্যাক্টিসে সাহল-কিয়ানরা। রবিবার যুবভারতীর ট্রেনিং গ্রাউন্ডেEi Samay
Published on
:
2 min read
পার্থ দত্ত
মোহনবাগান কোচ পানোস যখন রবিবার বিকেলে যুবভারতীতে প্রেস মিট করতে এলেন, তখন ক্লিফোর্ড মিরান্ডা তাঁর চেন্নাইয়িন টিম নিয়ে চেন্নাই বিমানবন্দরে প্রতীক্ষায় কলকাতায় আসার জন্য।
পানোস এসেছিলেন অনিরুদ্ধ থাপাকে নিয়ে। বাগানের মিডফিল্ড জেনারেলের উত্থান চেন্নাইয়িনেই। অনিরুদ্ধর গলায় চেন্নাইয়িন নিয়ে ঝরে পড়ল একরাশ শ্রদ্ধা। 'ওরা আমাকে নিয়মিত খেলার সুযোগ দিয়েছে। ভরসা রেখে তৈরি করেছে। তাই চেন্নাইয়িনের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।' বললেন অনিরুদ্ধ।
চেন্নাইয়িন টিমের বঙ্গসন্তান দীপেন্দু বিশ্বাস কি কোনওদিন তাঁর পুরোনো ক্লাব মোহনবাগান সম্পর্কে এমন শ্রদ্ধা দেখাতে পারবেন? দেখানো কঠিন। কারণ মোহনবাগান ডিফেন্সে নির্ভরশীল হয়ে ওঠা সত্ত্বেও আইএসএলে তাঁর উপর ভরসা রেখে খেলার সুযোগ দেননি কোচেরা। পানোস জমানাতেই তাঁকে তাই চেন্নাইয়িনে যেতে হয়েছে। হ্যামস্ট্রিং চোট সারিয়ে দীপেন্দু নতুন টিমের জার্সি পরার অপেক্ষায়।
আজ়েরবাইজানের বাকুতে ফিফার অনূর্ধ্ব ১৫ বিশ্বকাপে রবিবার সকালে ভারত ২–১ গোলে হারিয়েছে ক্যামেরুনের মতো আফ্রিকার সেরা শক্তিকে। দেশের সিনিয়র টিম যখন ফিফা ক্রমতালিকায় ক্রমশ পিছোচ্ছে, তখন জুনিয়রদের এই সাফল্যকে আপনি কীভাবে দেখছেন? অনিরুদ্ধর জবাব, 'ভারত বরাবরই জুনিয়র পর্যায়ে ভালো। কিন্তু ১৯ বা ২৩ বছর বিভাগ থেকে হারিয়ে যায়। কারণ তখন দেশের প্রতিভাবান ফুটবলাররা ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত সুযোগ পান না।' দীপেন্দুও তো মোহনবাগানে সুযোগ না পেয়ে হারিয়ে যাওয়ার মিছিলে।
পানোসের মোহনবাগান চলতি মরশুমে ডুরান্ড, শিল্ড ও আইএসএল মিলিয়ে এখনও খেলেছে ১২ ম্যাচ। সেখানে ৫ ম্যাচে তাদের গোলহজম করতে হয়েছে বিশাল কাইথের মতো দুর্ভেদ্য কিপার থাকা সত্ত্বেও। আইএসএলের প্রথম ম্যাচেই নর্থইস্টের কাছে তাদের ০–১ হারতে হয়েছে ইনজুরি টাইমের গোলে। অর্থাৎ টিমের ডিফেন্সে যে গলদ রয়েছে, তা পরিষ্কার। অন্য দিকে, অজস্র গোলের সুযোগ তৈরি করেও টিম সে ভাবে গোল করতে পারছে না। এক মরশুম আগে কিন্তু মোহনবাগানের ঘরে আইএসএলের জোড়া খেতাব এসেছিল গোল করা ও গোল খাওয়া আটকেই। সেই টিমে শুভাশিস, আলবার্তো, টমদের সঙ্গে বড় ভূমিকা ছিল দীপেন্দুরও।
চলতি মরশুমে তাঁর টিম এখনও ধারাবাহিকতার ছন্দে নেই কেন? পানোসের ব্যাখ্যা, 'ফুটবলারদের আনফোর্সড মিসটেকই এর জন্য দায়ী।' অর্থাৎ নিজেদের ভুলে ছন্দহীন বাগান। এমন অবস্থাতে চলতি আইএসএলের প্রথম হোম ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বী চেন্নাইয়িন কিন্তু কঠিন টিম। আগের দু'ম্যাচে ক্লিফোর্ডের টিম গোয়ার সঙ্গে ড্র ও বেঙ্গালুরুর কাছে হারলেও কলকাতায় পা রেখেছে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে। ক্লিফোর্ড বলেছেন, 'মোহনবাগান ব্যক্তিগত দক্ষতার নিরিখে এগিয়ে থাকলেও আমরা টিম গেমে ওদের হারানোর ক্ষমতা ধরি।'
মোহনবাগানের ব্যক্তিগত দক্ষতা যাঁদের বেশি, সেই মিগুয়েল ও আপুইয়ার এই ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা নেই। অসুস্থ আপুইয়া হাসপাতালে ভর্তি। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে প্র্যাক্টিসই করেননি মিগুয়েল। রিহ্যাব সারছেন ম্যাকলারেন। তিনিও প্রথম টিমে নেই। অন্য দিকে, চেন্নাইয়িনে মাধি তালাল, নুনো রেইস, নিকোলা স্তাঙ্কোভিচের মতো আইএসএলে খেলা বিদেশিদের সঙ্গে আছেন রামন তাঙ্কি, এমানুয়েলের মতো বেশ ভালো মানের বিদেশি।
সবমিলিয়ে চেন্নাই এক্সপ্রেসের গতি রোধ করা টা বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ অনিরুদ্ধদের।