গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসায় ৭ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষককে মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে গাজীপুরের বাসা ছেড়েছেন আলোচিত বডিবিল্ডার শাহজালাল রুমি। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি অন্যত্র অবস্থান করছেন। একদিকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে মাদ্রাসায় হামলা, শিক্ষককে মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়েরের কারণে তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
গতকাল রোববার থেকে টঙ্গীতে রুমির বাসায় তালা ঝুলিয়ে তারা আত্মগোপনে চলে যান।
এর আগে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন রুমি ও তার স্বজনরা। রুমি একাধিকবার ফেসবুক লাইভে এসে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাসা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রুমি।
আজ সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করে রুমির বন্ধু ইসমাইল হোসেন রানা বলেন, ‘মাদ্রাসার ঘটনায় বিভিন্ন মাধ্যমে ভিকটিম পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে আমরা কেউ নিরাপদ না। এজন্য রুমি ও স্বজনরা বাসা থেকে অন্যত্র আত্মগোপনে চলে গেছেন।’
জানা গেছে, রুমি পেশায় একজন ফেব্রিক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বডি বিল্ডিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। বাবার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার মেয়ের বয়স সাত বছর এবং ছেলের চার বছর। মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর পর সেখানে ঘটে যাওয়া অভিযোগের বিচার চাইতে গিয়ে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে গড়ায়। এসময় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনকে থাপ্পড় মারেন রুমি। এ ছাড়া উত্তেজিত লোকজন ওই শিক্ষককে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ভিকটিমের বাবা শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে ওই মামলায় শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, রুমি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষক ও অন্যদের মারধর করেন এবং ভাঙচুর চালান। এ ঘটনায় অর্থ ও মুঠোফোন লুটের অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব অভিযোগে রুমিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, দুটি মামলাই তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
