দশ দফা দাবি আদায়ে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই) ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু করেছেন পড়ুয়ারা। আগেই এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন যাদবপুর, আইএসআই ও আলিয়া-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার, ক্যাম্পাসে আসতে চেয়েছিলেন চিত্র পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
পূর্ব ঘোষণা মতোই মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন এসআরএফটিআই পড়ুয়ারা। মঙ্গলবার সকালেই ক্যাম্পাসের ভিতরে ‘জয় ভীম’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিস্থিতি, বহিরাগত হামলা ও পড়ুয়াদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত-সহ নানা বিষয় তুলে ধরে বিক্ষোভ দেখান। পড়ুয়াদের অভিযোগ, শিক্ষার গৈরিকীকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। গোটা দেশ জুড়ে এই আন্দোলন চলবে। শিক্ষার উপরে যে আঘাত নেমে এসেছে ছাত্রছাত্রীরা একযোগে তার মোকাবিলা করবেন।
এ দিন ওই আন্দোলনে সংহতি জানাতে ক্যাম্পাসের বাইরে পৌঁছেছিলেন চিত্রপরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। এর আগে বিশিষ্ট অভিনেতা নসীরুদ্দীন শাহ সকলকে পড়ুয়াদের পাশে থাকার আহ্বান জানান। জানা গিয়েছে, উপস্থিত থাকতে পারেন অভিনেতা ঋদ্ধি সেন। এ দিন কমলেশ্বর ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের বাইরে দাঁড়িয়েই তাঁর কথা বলেন আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে। পরে আনন্দবাজার ডট কম-এর প্রতিনিধিকে তিনি বলেন, “সিনেমা দেওয়াল ভাঙে। কিন্তু এখন দেওয়াল তৈরি করা হচ্ছে। ভিতরে ঢুকতে না দেওয়া, কথা বলতে না দেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার ভঙ্গের সামিল। পড়ুয়ারা যে লড়াইটা লড়ছেন সেটা গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংবিধানিক মর্যাদা রক্ষার লড়াই। আমি তাঁদের সঙ্গে আছি।’’
ক্যাম্পাসের বাইর থেকেই বার্তা দিচ্ছেন কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। - সংগৃহীত।
এসআরএফটিআই-এর পাশে দাঁড়িয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও। সেখানকার ছাত্র অঞ্জিল দাস মঙ্গলবার বলেন, ‘‘এসআরএফটিআই-এর পড়ুয়াদের আন্দোলনকে সংহতি জানাতে এবং শিক্ষায বিজেপি-র আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে দুপুরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেও অবস্থান বিক্ষোভ হবে।’’ এসআরএফটিআই ছাত্র সংসদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গেরুয়াকরণ এবং ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করার বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে ক্যাম্পাস আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তাঁরা। ২৭ অক্টোবরের এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাধিকার রক্ষা, ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং ছাত্রছাত্রীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবিতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছিল ছাত্র সংসদ।
গত ২৭ সেপ্টেম্বরই এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে গোলমাল শুরু হয়। ওই দিন অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র সংঘর্ষ পরিস্থিতি শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে বহিরাগতেরা পড়ুয়াদের মারধর করেছেন। পাল্টা অভিযোগ তোলে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতও। পরে, ৪ অক্টোবর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও এক দফায় ক্যাম্পাসে হামলা চালান বহিরাগতেরা, অভিযোগ এমনই। এর পরই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন পড়ুয়াদের একাংশ। তাঁদের দাবি ছিল, প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
ক্যাম্পাসে আন্দোলনে পড়ুয়ারা।
কিন্তু সেই সমস্যা সমাধানের বদলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অনির্দিষ্টকালীন অবস্থান শুরু করেন পড়ুয়ারা। শুরু হয় ক্লাস বয়কট। ১৪ অক্টোবর উপাচার্যের দফতরে ভাঙচুর চালানো এবং পরের দিন উপাচার্যকে শারীরিক ভাবে হেনস্থা করার অভিযোগ তোলেন কর্তৃপক্ষ। তার পরই ছয় পড়ুয়াকে বহিষ্কার করা হয় এবং পুজোর ছুটি বৃদ্ধি করে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সব ক্লাস স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় হস্টেল ও মেস।
পড়ুয়ারা অবশ্য ক্যাম্পাস ছাড়তে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, জল, বিদ্যুতের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি শৌচালয়েও তালা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবু তাঁরা ক্যাম্পাস ছাড়েননি। বরং গোটা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে সংহতি প্রার্থনা করেছে।
