কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (ফাইল চিত্র)ANI
Published on
:
2 min read
উৎসবের মরশুম শেষে ফের জাতীয় রাজনীতিতে আরও ধারালো হতে চলেছে সরকার ও বিরোধী সংঘাত। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে বিজেপি ও বিরোধী ব্লক INDIA-র সংঘাত এ বার রাজপথে। ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ সমাবেশের পরদিন, ২ নভেম্বর হায়দরাবাদে পদযাত্রার নেতৃত্ব দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তেলঙ্গানা বিজেপির এই কর্মসূচির স্লোগান, ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, ভিড়তন্ত্র হটাও’। ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতেই বিজেপির এই পাল্টা কর্মসূচি বলে মনে করা হচ্ছে।
কংগ্রেসের অভিযোগ, SIR-এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ছে, যা নাগরিকদের ভোটাধিকারকে বিপন্ন করছে। এই প্রক্রিয়া বন্ধ করার পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেছে INDI জোটে।
অন্যদিকে, তেলঙ্গানা বিজেপির সভাপতি এন রামচন্দ্র রাওয়ের দাবি, SIR নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে কংগ্রেস। তাঁর বক্তব্য, মৃত, অন্যত্র চলে যাওয়া, খুঁজে না পাওয়া এবং একাধিক জায়গায় নাম থাকা ব্যক্তিদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়লে তা ফের তালিকায় তোলার সুযোগও রয়েছে বলে দাবি বিজেপির। অন্যদিকে, রামচন্দ্র রাও মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডিকে তাঁর নিজের গ্রাম কোন্ডারেড্ডিপল্লিতে গিয়ে ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
দিল্লির পরে হায়দরাবাদ, তারপর হরিয়ানা
কংগ্রেসের সমাবেশের ঠিক পরদিন শাহের পদযাত্রা রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধীরা যখন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, বিজেপি তখন SIR-এর পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে। ৫ নভেম্বর হরিয়ানার কর্নালেও একই প্রচারের অংশ হিসেবে পদযাত্রায় যোগ দেওয়ার কথা শাহের।
এদিকে, কংগ্রেসের সমাবেশে যোগ দিতে তেলঙ্গানার নেতাদের দিল্লি যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রামচন্দ্র রাও। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির ঘাটতি ও জলসংকটের মতো সমস্যা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মসূচির বদলে রাজ্যের সমস্যায় নজর দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে SIR-কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তুঙ্গে উঠতে চলেছে। ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে বিরোধীদের সমাবেশের পাল্টা নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়ার পক্ষে বিজেপির পদযাত্রা—দুই কর্মসূচির দিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।