স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী বেগোনিয়া গোমেজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির এক বিচারক। একই সঙ্গে তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তাকে মাসে দুবার আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গোমেজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী সানচেজ। তার ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধেও একের পর এক তদন্ত চলায় সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে।
বিচারক হুয়ান কার্লোস পেইনাদোর অভিযোগ, স্বামীর রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে মাদ্রিদের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের পেশাগত অবস্থান এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন গোমেজ। তার বিরুদ্ধে আত্মসাৎ, প্রভাব খাটানো, ব্যবসায়িক লেনদেনে দুর্নীতি এবং তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
তবে গোমেজ ও সানচেজ উভয়েই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সানচেজের দাবি, তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি একে ‘অশ্লীল প্রহসন’ বলেও অভিহিত করেছেন।
২০২৪ সালে ডানপন্থী রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকা দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ‘মানোস লিম্পিয়াস’ গোমেজের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত শুরু হয়। ওই সময় সানচেজ কয়েক দিনের জন্য সরকারি দায়িত্ব থেকে বিরতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন কি না, তা নিয়ে ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন।
গোমেজের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশের সমালোচনা করেছেন স্পেনের বিচারমন্ত্রী ফেলিক্স বোলানোস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ন্যায়বিচারে বিশ্বাসীদের জন্য এটি একটি ভয়াবহ দিন। তবে শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্পেনের সংবাদমাধ্যম এল পাইস এক সম্পাদকীয়তে বলেছে, পুরো তদন্তপ্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপ, গণমাধ্যমের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা এবং নিরপেক্ষতার অভাব দেখা গেছে।
এদিকে সানচেজের ঘনিষ্ঠ মহলেও দুর্নীতির তদন্ত চলছে। তার নেতৃত্বাধীন স্প্যানিশ সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির (পিএসওই) সদর দপ্তরে সম্প্রতি তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। দলীয় তহবিলের অর্থ অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ মোকাবিলায় অর্থ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।