শরণখোলা প্রতিনিধি।।
আবারও বাঘ হানা দিয়েছে বাগেরহাটের শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়নের সুন্দরবনসংলগ্ন সোনাতলা গ্রামে। গত শনিবার রাতে বাঘের সামনে পড়েন স্থানীয় এক বাসিন্দা। পরের দিন গতকাল রবিবার সকালে বিভিন্ন বাড়ির আঙিনা, বাগান ও ধানক্ষেতে দেখা যায় অসংখ্য পায়ের চাপ। সেই থেকে গত দুই দিন ধরে বাঘটি লোকালয়ের ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এতে সাউথখালী ইউনিয়নের সুন্দরবনসংলগ্ন পূর্ব সোনাতলা, পানিরঘাট, মডেল বাজার, পশ্চিম সোনাতলা ও বকুলতলাসহ পাঁচ গ্রামের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে বাঘ আতঙ্ক। তবে বাঘটি এখনো লোকালয়ে আছে, নাকি বনে ফিরে গেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। করে বলতে পারছে না বন বিভাগ।
বন বিভাগ জানিয়েছে, বনের কাছাকাছি ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাঘের অবস্থান শনাক্ত করতে ড্রোন উড়িয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বনরক্ষী, ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যরা এলাকায় পাহারায় রয়েছেন। মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে।
এর আগে গত ১৯ অক্টোবর সকালে একই গ্রামে ভোলা নদী সাঁতরে একটি বাঘ লোকালয়ে প্রবেশ করেছিল। হয়তো খাবারের সন্ধানে বাঘটিই বার বার গ্রামে আসছে বলে ধারণা এলাকাবাসীর।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও বাঘের উপস্থিতিতে উদ্বেগ বেড়েছে বনসংলগ্ন গ্রামগুলোর মানুষের মধ্যে। বাঘের ভয়ে অনেকে রাতে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। দিনের বেলায়ও ধানক্ষেত ও বাগানে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে ভয় পাচ্ছেন তারা।
সোমবার বিকালে সিপিজি (কমিউনিটি প্যাট্রল গ্রুপ) সদস্য মো. খলিল জমাদ্দার জানালেন, শনিবার রাত ১০টার দিকে পশ্চি সোনাতলা গ্রামের আব্দুর রব হাওলাদার নামের এক ব্যক্তি বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় টর্চলাইটের আলোয় তিনি প্রথম বাঘটি দেখতে পেয়েছেন। তার দাবি, বাঘটি আলোর সামেন পড়ার পর দ্রুত ধানক্ষেতের দিকে চলে যায়। পরদিন (রবিবার) সকালে সরোয়ার হাওলাদার নামের এক কৃষক ধানক্ষেতে কীটনাশক কেরতে গিয়ে ক্ষেতের মধ্যে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান। তিনি ভয়ে কীটনাশক স্প্রে না করেই বাড়ি ফিরে যান। পরে তারা লোকালয়ে বাঘ আসার খবর গ্রামবাসী এবং ভিটিআরটি (ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম) ও সিপিজি সদস্যদের জানান।
খলিল জমাদ্দার জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ধানক্ষেত, বিভিন্ন বাড়ির আঙিনা ও নদীর চরে বাঘের পায়ের অসংখ্য ছাপ দেখতে পেয়েছেন। বাঘটি প্রথমে পশ্চি সোনাতলা গ্রামের আবু রাজ্জাক আকনের বাড়িসংলগ্ন ভোলা নদী পার হয়ে গ্রামে ঢুকেছে। এর পর পানিরঘাট, মডেল বাজার ও পূর্ব সোনাতলা গ্রামের আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঘটি বিচরণ করেছে। এসব এলাকায় পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। ছাপগুলো দেখে মনে হয়েছে, বাঘটি কিছুক্ষণ আগেই এলাকা দিয়ে চলাচল করেছে। পরে বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হয়।
পশ্চিম সোনতলা গ্রামের বাসিন্দা মো. রতন খাঁন জানান, রাতের বেলায় গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়ির গোয়াল ঘরের চারপাশ ঘুরেছে বাঘটি। এ ছাড়া পানিরঘাট এলাকার আসাদুল হাওলাদারের বাড়ির রান্নাঘরের পেছনে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পেয়েছেন। বাঘটি এখনো লোকালয়ে কোথাও লুকিয়ে আছে বলে ধারণা করছেন তিনি।
পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ধানক্ষেতে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। পায়ের ছাপ দেখে বাঘটি এলাকায় এলোমেলোভাবে ঘোরাফেরা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাতে একা চলাচল না করতে এবং শিশু ও গবাদিপশু নিরাপদে রাখতে বলা হয়েছে।
এসিএফ আরো বলেন, বাঘের অবস্থান নিশ্চিত হতে বনরক্ষী, ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যরা কাজ করছেন। এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রোন উড়িয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও পাহারায় অংশ নিয়েছেন। বাঘটি লোকালয়ে আছে, নাকি বনে ফিরে গেছে, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। বনসংলগ্ন ১০ কিলোমিটার এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
