আজকাল ওয়েবডেস্ক: মূল্যবৃদ্ধির চাপ এবং ভারতের অর্থনীতির শক্তিশালী বৃদ্ধির সম্ভাবনার মধ্যে ফের সুদের হার বাড়াতে পারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। জার্মানির আর্থিক সংস্থা ডয়েচে ব্যাঙ্কের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে রেপো রেট বেড়ে ৬.২৫ শতাংশ হতে পারে। সেই সম্ভাবনা বাস্তব হলে গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ এবং অন্যান্য ঋণের সুদ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। তবে এটি ডয়েচে ব্যাঙ্কের পূর্বাভাস, আরবিআইয়ের কোনও ঘোষিত সিদ্ধান্ত নয়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরেই রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। এরপর ২০২৭ সালের প্রথম ছয় মাসে আরও ৫০ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমান সুদের হার বৃদ্ধির পর্বে ১০০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে ডয়েচে ব্যাঙ্ক।
মূল্যবৃদ্ধির চাপেই সুদ বাড়ানোর আশঙ্কা
ডয়েচে ব্যাঙ্কের অনুমান, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার গড়ে ৬ শতাংশ থাকতে পারে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে তা কমে ৫ শতাংশ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষে ৪.৭ শতাংশ হতে পারে। তবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, পরিবারের মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রত্যাশা ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশ হয়েছে। এর ফলে পণ্য ও পরিষেবার দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধির সম্ভাবনা অর্থনীতিতে
মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি থাকলেও ভারতের অর্থনীতি ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষে ৭ শতাংশের বেশি হারে বাড়তে পারে বলে মনে করছে ডয়েচে ব্যাঙ্ক। তবে চড়া অপরিশোধিত তেলের দাম, দুর্বল বর্ষা এবং আগের বছরের জিএসটি হ্রাসের প্রভাব কমে যাওয়ায় বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমতে পারে।
এদিকে, ২০২৭ সালে ডলারের তুলনায় টাকার দাম ৯৭-এর নীচে নেমে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজকোষ ঘাটতি জিডিপির ৪.৩ শতাংশে রাখার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অষ্টম বেতন কমিশনের সম্ভাব্য ব্যয় ভবিষ্যতে সরকারি অর্থনীতির উপর চাপ বাড়াতে পারে।
https://www.youtube.com/watch?v=jNGYSN4KXPc&t=3s
