নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট :
২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩: ১৩

মিরপুর শেরেবাংলায় আজ ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনকক্ষ ছিল জনাকীর্ণ। নাজমুল হোসেন শান্ত তাই মজা না করে থাকতে পারলেন না। টেস্ট ম্যাচে ইদানীং এত সাংবাদিক আসছেন—কথাটা হাসতে হাসতে বলেই ফেলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শান্ত এটাও মনে করেন যে টেস্টে বাংলাদেশের আরও অনেক উন্নতির জায়গা আছে।
ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টির তুলনায় টেস্টে বাংলাদেশ দুর্দান্ত খেলছে। গত এক বছরে আট টেস্টের পাঁঁচটিতেই জিতেছে তারা। দুটিতে ড্র করেছে। একটিতে হেরেছে বাংলাদেশ। এই সময়ে অধিনায়ক শান্তর পাশাপাশি মুশফিকুর রহিম, তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাট থেকেও এসেছে সেঞ্চুরি। তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদেরও সাদা পোশাকে ইনিংসে ৫ উইকেট করে নেওয়ার কীর্তি রয়েছে।
এক বছরে টেস্টে বাংলাদেশের এত সফলতা এসেছে শান্তর নেতৃত্বেই। তবে বাংলাদেশ অধিনায়কের ক্ষুধা যে আরও বেশি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট শুরুর আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ভালো লাগছে সবাই টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে কথা বলছেন। তবে আমার মতে যে সংস্কৃতির কথাটা বললেন, সেটা আরও দুই-তিন বছর আগে থেকে শুরু হয়েছে। এটা ধরে রাখতে হবে। অনেক ভালো করার সুযোগ আছে। যেভাবে আসলে আমরা ক্রিকেটাররা চিন্তা করছি, আমরা ভালো করছি কিন্তু ক্রিকেটাররা এখনো খুশি না। আমাদের মতে এখান থেকে আরও উন্নতির জায়গা আছে।’
মিরপুরে আগামীকাল শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এই টেস্ট সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবলধোলাই করতে পারলে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শান্তর দলের সফলতার হার হবে ৬৬.৬৭ শতাংশ। ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা তখন আরও একটু জোরালো হবে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজ নিয়ে শান্ত খুব বেশি রোমাঞ্চিত হচ্ছেন না। ক্রিকেটারদেরও ‘শান্ত’ থাকার পরামর্শ বাংলাদেশ অধিনায়কের। মিরপুরে আজ শান্ত বলেন, ‘আমরা ক্রিকেটাররা পা মাটিতেই রাখছি। খুব বেশি রোমাঞ্চিত না হয়ে ভাবছি কীভাবে আরও ভালো করতে পারি। ক্রিকেটাররা এভাবে চিন্তা করছে। যতটুকু অর্জন করেছি, মনে হয় এটা যথেষ্ট না। আমাদেরও উন্নতির সামর্থ্য আছে। ড্রেসিংরুমে যখনই কথাবার্তা হয় টেস্ট নিয়ে, এটাই আমরা আলাপ করি।’
৫৫.৫৬ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে বাংলাদেশ এখন ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে চারে। এই চক্রে বাংলাদেশের ৬ টেস্টের চারটিই ঘরের মাঠে। যার মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশ খেলবে হোমে। দেশের বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ রয়েছে বাংলাদেশের।
শান্তর চিন্তা আপাতত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ নিয়েই। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন,‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো আমরা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি কি না, ঠিকমতো কাজটা করছি কি না, ক্রিকেটাররা ১২০ শতাংশ দিচ্ছে কি না মাঠে। যদি এই জিনিসগুলো আমরা ঠিকমতো করতে পারি, আমরা ভালো টেস্ট ম্যাচ খেলব। টেস্ট সিরিজের এই দুইটা ম্যাচেই ভালো করব। এগুলো ঠিকঠাকমতো করতে পারলে অধিনায়ক হিসেবে খুবই খুশ থাকব। ক্রিকেটাররা যেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, কষ্ট করেছে তাতে আমি অনেক খুশি।’
বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ৮ নভেম্বর হবে সিলেটে। দুই ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজ ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে ৭৫ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। দুইয়ে থাকা নিউজিল্যান্ডের সফলতার হার ৭২.২২ শতাংশ। তিনে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতার হার ৬৬.৬৭ শতাংশ।

