

ছবি: প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের পিয়ারাপুর গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত নূর হোসেনের বসতঘর পরিদর্শন করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাইথোয়াই প্রু মারমা।
এ সময় পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পাঁচ বান্ডিল ঢেউটিন, নগদ ৫০ হাজার টাকা ও শীতবস্ত্র দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ইউএনও কাইথোয়াই প্রু মারমা। এ সময় মন্ত্রীর প্রতিনিধি বদরুল আকম শ্যামল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা, ঢেউটিন ও শীতবস্ত্র তুলে দেন।
পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির দুর্দশা লাঘব ও পুনর্বাসনে সহায়তার অংশ হিসেবে মন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।
শ্যামনগরে ধান ক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নিখোঁজের চার দিন পর ধান ক্ষেত থেকে মনোরঞ্জন মন্ডল (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। সোমবার(২৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কৈখালী ইউপির শৈলখালী এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মনোরঞ্জন মন্ডল একই উপজেলার কৈখালী ইউপির যাদবপুর গ্রামের দিগম্বর মন্ডলের ছেলে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় চার দিন আগে ধানক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগের উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হন মনোরঞ্জন মন্ডল। এর পর তিনি আর বাড়ীতে ফিরে আসেননি। তাঁর খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান করেন। অবশেষে সোমবার সকালে স্থানীয়রা শৈলখালী এলাকার ধানক্ষেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পর শ্যামনগর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন স্থানীয়রা। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, মনোরঞ্জন মন্ডল গত চার দিন নিখোঁজ ছিলেন।পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজা খুঁজি করে তাকে পাননি। সকালে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। তিনি বলেন ধারণা করা হচ্ছে তিনি নিজ জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করা কালিন বিষ ক্রিয়ায় স্ট্রোক জনিত কারণে মারা গেছেন। তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনে মরদেহ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

ভুয়া বিলে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ভুয়া বিল তৈরি করে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আসামিদের মধ্যে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং সীমান্ত ব্যাংকের কর্মকর্তারা রয়েছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ বাদী হয়ে মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক মো.রিয়াজ উদ্দিন। মামলার আসামিরা হলেন, রেলওয়ের অস্থায়ী কর্মচারী মো.হাবিবুল্লাহ খান, সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ও খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের এবং অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমান। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, সাবেক উপকর কর্মকর্তা এম. মনজুর উদ্দিন চৌধুরী ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে। সীমান্ত ব্যাংক পিএলসির সাবেক অফিসার মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া এবং সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ার। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জালিয়াতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। ‘মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চারটি বিলের বাইরে অতিরিক্ত ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ পরিশোধ করা হয় বলে অভিযোগ করেছে দুদক। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। পরদিন চেকটি সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ‘দি কসমোপলিটন করপোরেশন’-এর নামে খোলা একটি হিসাবে জমা দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ওই হিসাব থেকে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। দুদকের অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে দপ্তরের বিল রেজিস্টার ও অন্যান্য নথিতে কথিত ভুয়া বিলটির বৈধ এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। বিল গ্রহণ ও চেক ইস্যুর প্রক্রিয়ায় নিয়ম অনুসরণ না করা এবং মূল ঠিকাদারের তথ্য যাচাই না করার অভিযোগও আনা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া এবং সীমান্ত ব্যাংকে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কোহিনুর আক্তার নামের এক নারীর পরিচয় ব্যবহার করা হয়। তবে প্রকৃত কোহিনুর আক্তার নিজেকে শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন দুদকের অভিযোগ, পরিচয়পত্রের ছবি ও স্বাক্ষরে অসংগতি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঠিকানা নিয়ে সন্দেহ থাকার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যথাযথ যাচাই-বাছাই করেননি। দি কসমোপলিটন করপোরেশনে মালিক নাবিল আহসান সোহাগ আলী নামের ব্যক্তিকে চেনেন না এবং তিনি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত প্রতিনিধি নন বলে জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর দুদকের উপপরিচালক মো.রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আসামিরা পরস্পরের সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে কথিত ভুয়া কোহিনুর আক্তার ও সোহাগ আলীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে তাঁদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তা-ও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

ফানুস উড়িয়ে রাজস্থলীতে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন
রাঙ্গামাটি রাজস্থলীতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা তথা ফানুস উড়ানো উৎসব মহাসমারোহে উদযাপিত হয়েছে। সোমবার (২৬অক্টোবর) সকালে উপজেলার রাজস্থলী মৈত্রি বিহারে সকল শ্রেণির পূর্নার্থীদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন প্রার্থনা প্রবারণা পূর্ণিমার অনুষ্ঠানিকতা পালন করে। এরপর সন্ধ্যায় মূল আকর্ষণ ফানুস উড়ানো উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আওতায় রাজস্থলী মৈত্রি বৌদ্ধ বিহার, মঙ্গলসুখ বিহার, আমছড়া পাড়া বিহার, ছাইংখ্যং পাড়া বৌদ্ধ বিহার, আড়াছড়ি, ধনুছড়ি, বগাছড়ি, ইউনিম্রং, গাইন্দ্যা, তরগুমুখ, পৌয়তু,চুষাকপাড়া, কমলছড়ি, নারাইছড়ি, যৌথ খামার, চিংখং, বিহার, সহ রাজস্থলী উপজেলার সকল বিহারে প্রবারনা পূর্ণিমা উপলক্ষে দিনব্যাপী পৃথক পৃথক পালন করা হয়েছে। এসময় নিজ নিজ বিহারের অধ্যক্ষরা সভাপতিত্বে বৌদ্ধ বিহার তথা মন্দির প্রবারণা পূর্ণিমার গুরুত্ব শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবারণা পূর্ণিমা আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা মহাকারুনিক বুদ্ধ কর্তৃক বহুজনের হিত সুখের জন্য ভিক্ষু সংঘকে ধর্ম প্রচারের প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসারে বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে, বিশেষ করে যেসব বিহারে ভিক্ষু সংঘ বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান করে থাকে সেই সব বিহারে (বৌদ্ধ মন্দির) দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান সভায় গিয়ে সংঘকে ধর্ম উপদেশ প্রদান করা হয়। আজকের কর্মসূচির মধ্যে ভোরে পবিত্র ত্রিপিটকের মঙ্গলবানী পাঠ, সমবেত বুদ্ধ বন্দনা, ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ গ্রহণ, জাতীয়, ধর্মীয় ও নিজ নিজ সংগঠনের পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধ পূজা, পঞ্চশীল ও উপসথ শীল গ্রহণ, বৈজয়ন্তীক ধ্বজ্বা উত্তোলন, অন্ন ও পুস্পমেরু দান, ভিক্ষু সংঘের পিন্ডদান, উপসথ শীলধারীদের মধ্যহৃভোজ গ্রহণ, প্রবারনা পূর্ণিমার তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা, আলোক সজ্জা, সন্ধ্যা কালীন প্রদীপ পূজা, দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং জীব জগতের মঙ্গল কামনায় সমবেত প্রার্থনা করা হয়।এরপর ফানুস উত্তোলন করেন রাজস্থলী ক্যাম্পের ক্যাম্প অধিনায়ক মেজর হাফিজ আহম্মদ সৈকত, রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউছুফ হাসান, রাজস্থলী থানা অফিসার ইনচার্জ খালেদ হোসেন, রাজস্থলী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আজগর আলী খান,যুবদলের সদস্য সচিব উজ্বল কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা সহ বিহারের ভান্তে শ্রমণ সহ দায়ক দায়িকা বৃন্দ। ছবি ও ক্যাপসন, রাজস্থলীতে ফানুস উত্তোলন করছেন, রাজস্থলী ক্যাম্প অধিনায়ক মেজর হাফিজ আহম্মদ সৈকত ও নির্বাহী অফিসার ইউছুফ হাসান।

গলাচিপায় গণঅধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
গণঅধিকার পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গলাচিপা উপেজেলা শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় পৌর মঞ্চে এসে মিলিত হয়। পরে পৌরমঞ্চে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোয়েব মাস্টারের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা যুব অধিকার পরিষদের সহসভাপতি মো. মহিবুল্লাহ এনিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সদস্য সচিব মো. জাকির হোসেন মুন্সি, পৌর গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. রেজাউল হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. আরিফ বিল্লাহ, উপজেলা শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আমির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হোসেন প্রমুখ।

রোদের হাসিতে রঙিন পর্তুলিকা: ছাদ বাগানের অপরূপ সৌন্দর্য
সকালের সোনালি রোদ ছড়িয়ে পড়েছে ছাদবাগানে। সেই আলোর পরশে মেলে ধরেছে লাল, গোলাপি, হলুদ, কমলা ও সাদা রঙের পাপড়ি। ছোট ছোট মাংসল পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা ফুলগুলো যেন প্রকৃতির আপন হাতে আঁকা রঙিন ছবি। রোদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একে একে প্রস্ফুটিত হয় ফুল, আর সবুজের বুকে জেগে ওঠে বর্ণিল সৌন্দর্য। অল্প জায়গা, সামান্য যত্ন আর একটু রোদেই এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করে যে ফুল, তার নাম টাইম ফুল বা পর্তুলিকা। শহরের বাড়ির ছাদ, বারান্দা কিংবা গ্রামের আঙিনায় পর্তুলিকা এখন সৌন্দর্যপ্রেমীদের কাছে বেশ পরিচিত। সহজে বেড়ে ওঠা, বিচিত্র রং এবং দীর্ঘ সময় ধরে ফুল দেওয়ার বৈশিষ্ট্যের কারণে এই উদ্ভিদ টব ও ছাদবাগানের জন্য বিশেষ উপযোগী। ফুলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর সহজ পরিচর্যাও গাছটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। পরিচিতি ও বৈজ্ঞানিক নাম পর্তুলিকা ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Portulaca grandiflora। ইংরেজিতে এটি Moss rose বা Rose moss নামে পরিচিত। বাংলাদেশে অনেকে একে টাইম ফুল, পরতুলিকা কিংবা পুর্তলিকা নামেও চেনেন। এটি পর্তুলিকা গণের একটি রসালো উদ্ভিদ। এর পাতা ও কাণ্ডে পানি সঞ্চিত থাকে বলে গাছটি তুলনামূলক শুষ্ক পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। পর্তুলিকার আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকা, বিশেষত ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের বিভিন্ন অঞ্চল। বর্তমানে বিশ্বের নানা দেশে শোভাবর্ধক উদ্ভিদ হিসেবে এর চাষ হয়। উষ্ণ ও রোদপ্রধান আবহাওয়ায় ভালো জন্মে বলে বাংলাদেশের পরিবেশেও পর্তুলিকা সহজে বেড়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য, Portulaca umbraticola নামেও পর্তুলিকা গণের আরেকটি প্রজাতি রয়েছে। প্রজাতিভেদে ফুলের গঠন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য দেখা যায়। তাই সব পর্তুলিকাকে একই প্রজাতির উদ্ভিদ হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। রঙিন পাপড়িতে অনন্য সৌন্দর্য পর্তুলিকা ফুলের প্রধান আকর্ষণ এর উজ্জ্বল রং। লাল, গোলাপি, হলুদ, কমলা, সাদা ও বেগুনি—বিভিন্ন রঙের ফুল দেখা যায়। কোনো কোনো জাতের ফুলে একাধিক রঙের সমাহারও থাকে। একক ও বহুস্তরবিশিষ্ট পাপড়ির ফুল বাগানকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়। গাছটির পাতা ছোট, সরু ও মাংসল। কাণ্ডও রসালো এবং সাধারণত মাটির কাছাকাছি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অল্প সময়েই গাছটি টবের ওপর কিংবা বাগানের নির্দিষ্ট জায়গাজুড়ে সবুজের আবরণ তৈরি করতে পারে। ফুল ফুটলে সেই সবুজের মধ্যে রঙের অপূর্ব সমারোহ সৃষ্টি হয়। পর্তুলিকার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সূর্যালোকের সঙ্গে এর নিবিড় সম্পর্ক। পর্যাপ্ত আলো ও উষ্ণ আবহাওয়ায় ফুলগুলো সাধারণত ভালোভাবে ফোটে। বিকেলের দিকে কিংবা আকাশ মেঘলা থাকলে অনেক জাতের ফুলের পাপড়ি বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন রোদ উঠলে আবার পাপড়ি মেলে ধরে। এ কারণে ফুলটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে রোদেলা দিন বিশেষ উপযোগী। অল্প যত্নেই ফুলের সমারোহ পর্তুলিকা চাষের জন্য বড় জায়গা কিংবা ব্যয়বহুল উপকরণের প্রয়োজন হয় না। বাড়ির ছাদ, বারান্দা কিংবা বাগানের রোদেলা স্থানে সহজেই এর চাষ করা যায়। পানি সহজে বেরিয়ে যায় এমন বেলে বা বেলে-দোআঁশ মাটি এ ফুলের জন্য ভালো। টবে চাষ করলে পানি নিষ্কাশনের ছিদ্র থাকা জরুরি। প্রতিদিন প্রায় ছয় থেকে আট ঘণ্টা সরাসরি রোদ পেলে গাছটি সাধারণত ভালো ফুল দেয়। মাটির ওপরের অংশ শুকিয়ে এলে প্রয়োজনমতো পানি দিতে হবে। অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে শিকড় পচে যেতে পারে। মাটিতে পরিমিত জৈব কম্পোস্ট ব্যবহার করলেই সাধারণত যথেষ্ট। বীজ অথবা সুস্থ কাণ্ডের কাটিং থেকে সহজেই নতুন চারা তৈরি করা যায়। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে ভূমিকা পর্তুলিকা শুধু সৌন্দর্যবর্ধক ফুল নয়, বাগানের ক্ষুদ্র জীববৈচিত্র্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। ফুলে মধু ও পরাগ সংগ্রহ করতে মৌমাছি এবং অন্যান্য পরাগবাহি পতঙ্গের আগমন ঘটে। উপযুক্ত পরিবেশে এসব পতঙ্গের উপস্থিতি বাগানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। তবে সব জাতের ফুল সব ধরনের পরাগবাহি পতঙ্গকে সমানভাবে আকর্ষণ করে না। গাছটি মাটির ওপর ছড়িয়ে বেড়ে ওঠায় কিছু ক্ষেত্রে মাটির উপরিভাগ ঢেকে রাখতে সাহায্য করে। তবে এর প্রধান অবদান হলো অল্প জায়গায় সবুজ ও রঙিন পরিবেশ সৃষ্টি করা। পর্তুলিকা গণের কিছু প্রজাতি ভোজ্য হিসেবে পরিচিত হলেও সব শোভাবর্ধক জাতকে খাবার উপযোগী ধরে নেওয়া উচিত নয়। ছোট্ট টবে প্রকৃতির রঙিন উপহার বর্তমানে শহর ও মফস্বলের অনেক বাড়িতে ছাদবাগান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সীমিত জায়গায় সৌন্দর্য সৃষ্টির জন্য পর্তুলিকা হতে পারে চমৎকার একটি পছন্দ। কয়েকটি ছোট টবে বিভিন্ন রঙের চারা লাগালেই তৈরি হয় রঙিন ফুলের সমাহার। আর বাগানের মাটিতে লাগালে গাছটি ছড়িয়ে পড়ে তৈরি করতে পারে সবুজের ওপর ফুলের রঙিন গালিচা। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে বড় বাগান থাকা জরুরি নয়। একটি ছোট টব, সামান্য মাটি আর পর্যাপ্ত সূর্যালোকেই ফুটে উঠতে পারে রঙের উৎসব। সেই উৎসবে পর্তুলিকা তার উজ্জ্বল পাপড়ি মেলে ধরে ঘরের পরিবেশে যোগ করে আনন্দ, সৌন্দর্য ও প্রাণচাঞ্চল্য। তাই ছাদবাগান কিংবা বাড়ির আঙিনা সাজাতে টাইম ফুল বা পর্তুলিকা হতে পারে সহজ, সাশ্রয়ী ও দৃষ্টিনন্দন একটি পছন্দ। ছবিগুলো ফরেস্ট অফিস রোডের শিক্ষক কল্লোল দেবের বাসার ছাদ বাগান থেকে গতকাল তোলা।


