প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৬ এএম
জ্বালানি মহাপরিকল্পনায় জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচি থেকে পরিকল্পনার খসড়া প্রকাশ, দেশব্যাপী গণশুনানি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নগরের টাউন হল চত্বরে অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন, ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিডব্লিউজিইডি) যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি হয়। এতে পরিবেশকর্মী, উন্নয়নকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, পরিবেশগত ঝুঁকি ও মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। বিদেশি পরামর্শ ও আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সহসভাপতি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, জ্বালানি মহাপরিকল্পনার সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পরিবর্তে জনগণের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
সংগঠনটির সদস্য সুমন সরকার পরিকল্পনার খসড়া প্রকাশ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিভিন্ন অঞ্চলে গণশুনানির আয়োজনের দাবি জানান। সমাজকর্মী দীপু বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহের সংকটের প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। এ ঝুঁকি কমাতে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিতে হবে।
অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার দেবার্শীষ দেব পরিকল্পনা প্রণয়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, নারী ও প্রান্তিক মানুষের মতামত নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। উন্নয়নকর্মী ইমন সরকার বলেন, মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্য ব্যয়, পরিবেশগত প্রভাব ও বাস্তবায়ন কৌশল সম্পর্কে জনগণকে জানাতে হবে।
কর্মসূচি থেকে জ্বালানি প্রকল্পের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর দাবি জানানো হয়।