পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, জাপানের বেসরকারি খাত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৬ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে আয়োজিত এক সংবাদ এ কথা জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, এমন প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী দেশটির বেসরকারি খাতকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করেছেন। এ ছাড়া, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগের অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মন্ত্রী পর্যায়ে একটি যৌথ প্রক্রিয়া চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হবে।
হুমায়ুন কবির জানান, দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জের বিষয়টি এসেছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে জাপান বাংলাদেশের প্রতি টেকসই সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশের অনুরোধটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের আর্থিক সহায়তার বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা গভর্ন্যান্স ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পসহ বিভিন্ন উদ্যোগে জাপান সরকার ৫০ বিলিয়ন ইয়েন, যা প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও অর্থায়নের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ ছাড়া, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, একটি প্রযুক্তিনগরী (টেক সিটি) প্রতিষ্ঠা এবং দেশের তিন থেকে চারটি বিভাগে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগে জাপান আগ্রহ দেখিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপান সফরে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের আলোচনা ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতার চমৎকার ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে। এ সফর বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
এর আগে, টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।
এনআই/জেআই
