অবিসংবাদিত জাতীয় নেতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রবক্তা ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ শেরে বাংলা আবুল কাশেম (এ কে) ফজলুল হকের জন্মবার্ষিকী আজ। ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামের মিঞাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা ভাসানীর মতো নেতাদের কাছে তিনি ‘হক সাহেব’ নামে পরিচিত ছিলেন।
শৈশব থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এ কে ফজলুল হক। ইংরেজি, গণিত ও আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং আইনসভার সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা দায়িত্ব পালন করেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। ১৯৪০ সালে তিনি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ ছাড়া ২১ দফা দাবির অন্যতম প্রণেতা ছিলেন তিনি।
অবিভক্ত বাংলার সাধারণ মানুষের নেতা হিসেবে পরিচিত এ কে ফজলুল হক পরবর্তী সময়ে ‘শেরে বাংলা’ উপাধিতে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। একসময় ভারতবর্ষের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন তিনি। সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এই নেতা।
বিশ শতকের শুরুর দিকে বাঙালি মুসলমানরা শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে থাকায় তাদের শিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি। মুসলিম লীগ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন শেরে বাংলা।
১৯৩৫ সালে কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে কৃষকদের দুর্দশা লাঘব ও ঋণের বোঝা কমাতে ঋণ সালিশি আইনসহ বেশ কয়েকটি আইন প্রণয়ন ও পাসে ভূমিকা রাখেন তিনি।
বাংলা বিভক্তির বিরোধিতা করেছিলেন শেরে বাংলা। ব্রিটিশ সরকারের পরিকল্পনায় দুই বাংলা ভাগ হয়ে যাওয়ায় গভীরভাবে মর্মাহত হন তিনি। দেশভাগের পর কিছু সময় রাজনীতি থেকে দূরে থেকে আইন পেশায় মনোযোগ দেন। তবে বেশিদিন রাজনীতির বাইরে থাকতে পারেননি। ভাষা আন্দোলনের পর আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন রাজনৈতিক অঙ্গনে।
১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন তিনি। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়ী হলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন কাজ করে যাওয়া এই মহান নেতা ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে উপমহাদেশের ইতিহাসে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।
এমএ
