দিন চারেক আগে কলকাতার অফিসে কাজ করতে গিয়ে তাড়াহুড়োয় সোফায় বাঁ পায়ে আঘাত পান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দিকে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব না দিলেও ধীরে ধীরে পায়ে যন্ত্রণা বাড়তে থাকে তাঁর। এরই মধ্যে তৃণমূলের প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়ে ফের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে নথি তলব করে নির্বাচন কমিশন। আহত অবস্থাতেই রবিবার রাতে দিল্লি পাড়ি দেন ঋতব্রত। সোমবার দিনভর প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সারেন তিনি।
মঙ্গলবার দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন বলে জানিয়েছেন ঋতব্রত। আপাতত চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে পায়ের পরিচর্যা করছেন তিনি। কলকাতায় ফিরে চিকিৎসকদের মতামত অনুযায়ী প্লাস্টার করতে হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
নিজের চোট প্রসঙ্গে ঋতব্রত বলেন, “পায়ে বেশ ব্যথা রয়েছে। ফ্র্যাকচার থেকেই এই যন্ত্রণা হচ্ছে। কলকাতায় ফিরে ডাক্তার দেখিয়ে যা যা করণীয়, তা করব। চোট-আঘাত লাগলেও দলের কাজ আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আঘাত লাগা সত্ত্বেও আমাকে দিল্লি আসতে হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, সোমবার ভোরে নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন ঋতব্রত। সেখানে অভিযোগের সুরে তিনি লেখেন, “২৫ তারিখ সন্ধ্যায় চার্টার্ড বিমানে করে কালীঘাটের হলফনামাগুলি দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর আমাদের হলফনামাগুলি সড়কপথে দিল্লিতে পাঠানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার জন্য আমাদের কর্মীরা ২৪ তারিখ সকালেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে রওনা হয়েছেন। মাত্র আধ ঘণ্টা আগেই ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং আমাদের নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। আমাদের কর্মীরা সাহসিকতার সঙ্গে সেই চেষ্টা প্রতিহত করেছেন।” এর পরেই তিনি লেখেন, “লড়াই চলছে। এই লড়াই ‘চার্টার্ড সংস্কৃতি’র সঙ্গে তৃণমূল স্তরের মানুষের অদম্য সংকল্পের। স্বৈরাচারীরা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিকল্পিত লুট চালানোর যে চেষ্টা করছে, তাতে তারা সফল হবে না।” ঋতব্রতর এই পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। এর পরেই জানা যায়, পায়ে চোট থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের তলবে দিল্লি যেতে হয়েছে তাঁকে।
