রাঙামাটির সাজেক সড়কের অচলাবস্থা নিরসনে দুই সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সংকট কাটেনি। সোমবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে সাজেক সড়কের উজোবাজারে আয়োজিত এই বৈঠকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে অনড় থেকেছেন আন্দোলনকারীরা। সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় টানা পাঁচ দিন ধরে চলা অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি।
বৈঠক শেষে সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পর্যটকদের সাজেক ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছেন তিনি। তিনি জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রিক এই রুটে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, বৈঠক শেষে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া জানান, আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি পূরণে সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অবশিষ্ট দাবির বিষয়েও আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উক্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, দুই জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের আগে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারগণ সাজেক সড়কের উজোবাজার এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
টানা পাঁচ দিন ধরে সাজেক সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। পর্যটননির্ভর এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় সাধারণ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় দ্রুত সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
