ইয়ারবাড হারিয়ে ফ্যাসাদে পড়েছিলেন এক তরুণ। ত্রাতা হল, কৃত্রিম মেধা। ছোট্ট যন্ত্রটি খুঁজতে টানা ১০ মিনিট ধরে রীতিমতো হিমশিম খাওয়ার পর, মাত্র পাঁচ মিনিটেই ‘হারা নিধি’র সন্ধান দিয়ে দিল চ্যাটজিপিটি! জানা গিয়েছে, নুড়িপাথরের মধ্যে বহু চেষ্টা করেও ছোট্ট ডিভাইসটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। তখনই ওই তরুণ মাটির একটি ছবি তুলে এআই চ্যাটবটটি-তে আপলোড করার সিদ্ধান্ত নেন। এর পর যা ঘটল, তা-ই সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন তরুণ। ভাইরাল হয়েছে সেই পোস্টটি। সেই পোস্টের সত্যতা যদিও যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
রেডিটে পোস্ট করে তরুণ দাবি করেন, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ছবির মধ্যে হারিয়ে যাওয়া ইয়ারবাডটি শনাক্ত করে দেয় চ্যাটজিপিটি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর এই ক্ষমতা দেখে অবাক হয়ে যান তিনি। এমনকি, ঘটনাটি রেডিটে শেয়ার না করে থাকতে পারেননি ওই তরুণ। ছবি দেখে ছোটখাটো জিনিস শনাক্ত করার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দক্ষতা সংক্রান্ত এই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়েতেই শুরু হয় আলোচনা।
আরও পড়ুন:
পোস্টদাতা জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি ছেলের সঙ্গে একটি পার্কে গিয়েছিলেন। পার্ক থেকে বার হওয়ার সময় তাঁর ছেলে পার্কিং লটের দিকে দৌড়ে যায়। ছেলেকে ধরতে তার পিছনে ছুটতে গিয়েই ঘটে বিপত্তি। তাঁর হুডির সামনের পকেট থেকে ইয়ারবাডের কেসটি মাটিতে পড়ে যায়। কেসের ভিতরে থাকা জিনিসপত্রও ছিটকে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কেসটি মাটিতে পড়তেই বাম ইয়ারবাডটি ছিটকে নুড়িপাথরের মধ্যে হারিয়ে যায়। ছোট্ট সাদা ইয়ারবাডটি খুঁজে পেতে ওই তরুণকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। কারণ, একই রঙের পাথরের মধ্যে সেটি খুঁজে বার করা ছিল বেশ কঠিন। অস্তগামী সূর্যের আলো কমে আসায় খোঁজাখুঁজির কাজ আরও দুরূহ হয়ে ওঠে।
রেডিট ব্যবহারকারী জানান, প্রায় ১০ মিনিট ধরে খোঁজাখুঁজি করেও তিনি হারানো ইয়ারবাডটি খুঁজে পাননি। এক সময় সেটি খুঁজে পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। তখনই তাঁর মাথায় আসে এক অভিনব বুদ্ধি। নিজে খোঁজাখুঁজি চালিয়ে যাওয়ার বদলে তিনি সাহায্য নেন চ্যাটজিপিটি-র। নুড়িপাথরে ঢাকা মাটির একটি ছবি আপলোড করে চ্যাটজিপিটি-কে হারানো ইয়ারবাডটি খুঁজে দিতে বলেন।
তরুণের দাবি, জায়গাটি আরও ভাল ভাবে পরীক্ষা করার জন্য চ্যাটজিপিটি তাঁর কাছে আরও নিখুঁত ও সামনে থেকে তোলা ছবি চায়। এর পর অতিরিক্ত ছবিগুলি আপলোড করার এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে এআই চ্যাটবটটি হারানো ইয়ারবাডটি শনাক্ত করে ফেলে। শুধু তা-ই নয়, ছবিতে সেটির সঠিক অবস্থানও চিহ্নিত করে দেয় কৃত্রিম মেধা। পোস্টটি প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত নজর কাড়ে নেটিজেনদের। রেডিটে শুরু হয় আলোচনা। অনেকেই আলোচনা করতে থাকেন, কী ভাবে এআই-এর সাহায্যে ছবি বিশ্লেষণ করে হারিয়ে যাওয়া ছোটখাটো জিনিস খুঁজে পাওয়া সম্ভব। দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যার সমাধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ক্ষমতা কতটা কার্যকর হতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ সহকারে আলোচনা শুরু করেন রেডিট ব্যবহারকারীরা।
