“আমাদের কর্মীরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাদেরও গ্রেপ্তার করার হুমকি দেন তারা।”
Published : 27 Oct 2026, 04:05 PM
Updated : 27 Oct 2026, 04:05 PM
চট্টগ্রামে এস এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় থেকে ‘জোর করে’ পার্শ্বেল কার্টন নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এস এ পরিবহনের কাজীর দেউড়ি শাখা থেকে তিনটি কার্টন নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অভিযোগের পর কোতোয়ালী থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে। গ্রেপ্তার কৃষাণ বড়ুয়া (২৭) কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের আইসিটি শাখায় কনস্টেবল পদে কর্মরত। তার বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে।
এ সময় তার সঙ্গে থাকা নোটন বড়ুয়া নামে আরেকজন পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গ্রেপ্তার কৃষাণ বড়ুয়া ও পলাতক নোটন বড়ুয়া মিলে এসএ পরিবহন থেকে তিনটি পার্শ্বেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগ পেয়ে রাতেই কনস্টেবল কৃষাণকে আটক করা হয়।”
এস এ পরিবহন কর্তৃপক্ষের করা মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
এস এ পরিবহনের কাজীর দেউড়ি শাখার ব্যবস্থাপক মোরশেদ আলম চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সোমবার রাতে সেনাবাহিনীর লোগোসহ স্টিকার লাগানো একটি মোটর সাইকেলে করে দুজন লোক আমাদের কাউন্টারে এসেছিলেন। তাদের একজন পুলিশ লেখা হাফহাতা জ্যাকেট এবং অপর জন র্যাবের লোগো বসানো কালো রঙের টি শার্ট পরা ছিলেন।
“তারা নিজেদের পুলিশ ও র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে তিনটি কার্টন নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় আমাদের কর্মীরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাদেরও গ্রেপ্তার করার হুমকি দেন তারা।”
মোরশেদ আলম বলেন, “কাউন্টার থেকে আমাকে টেলিফোন করা হলে আমি ভিডিও কলে কথা বললে তারা নিজেদের চান্দাগঁও থানা পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। কোতোয়ালী থানার পুলিশ ছাড়া কেন এসেছে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানানোর কথা বললে তারা চলে যায়।
“পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের জ্যাকেট পরা ব্যক্তিটি এসে আবার কার্টন তিনটি নিয়ে যাবার চেষ্টা করে। এসময় আমি অফিসে থাকায় তাকে কৌশলে আমার রুমে নিয়ে বসাই এবং বাইরে থেকে দরজা আটকে দিয়ে দিয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করি। কোতোয়ালী থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের টিম এসে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।”
মোরশেদের ভাষ্য, তাদের কয়েকজন গ্রাহক মালামাল নিয়ে যাবার সময় কিছুদিন ধরে র্যাব-পুলিশ পরিচয়ে তাদের পথ আটকানো হয়। এবং তাদের কাছ থেকে সেগুলো ছিনিয়ে নেওয়ার কথাও তারা শুনেছেন।
এছাড়া গত সেপ্টেম্বর মাসে তাদের কার্যালয়ে এসে র্যাব পরিচয়ে একজন এসে কিছু কাগজপত্রও নিয়ে যায় বলেও জানিয়েছেন মোরশেদ আলম।
