ভিড়ের চাপের মধ্যেই প্রায় হাতেপায়ে ধরে পুলিশকর্মীরা দর্শনার্থীদের বলছিলেন, বাইরে বেরিয়ে যেতে। কিন্তু পুলিশের কথায় কেউই কর্ণপাত করেননি। যাঁরা প্রস্থান গেটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁরা বৃষ্টির জন্য বাইরে বের হতে চাননি। উলটোদিকে, ভিতরে জোর করে প্রবেশ করেই যাচ্ছিলেন দর্শনার্থীরা। তাতেই মণ্ডপের মধ্যে প্রবল ভিড়ে দমবন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছেন, এতটা ভিড়ের কারণেই বদ্ধ মণ্ডপের ভিতর অক্সিজেনের অভাব হয়। এটাও দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু ও অসুস্থ হওয়ার একটি কারণ।
মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য যে বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়োগ করা হয়েছিল, তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গোয়েন্দারা। কারণ, যে নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়োগ করা হয়েছিল, তা কোনও বিশেষ সংস্থা থেকে নয়।
এদিকে লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, চোরবাগানে মণ্ডপের ভিতর পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে সন্ধ্যা সোয়া সাতটা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত সিসিটিভির ফুটেজের উপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন গোয়েন্দারা। পুলিশের মতে, এই ১৫ মিনিটের সিসিটিভির ফুটেজেই হতে পারে সব ‘রহস্যের সমাধান’। ইতিমধ্যেই কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও ডিউটিতে থাকা পুলিশকর্মী ও আধিকারিকের বক্তব্য নিয়েছেন গোয়েন্দারা। ঘটনার সময় মণ্ডপের ভিতরে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তাঁদের সামনেই পুলিশকর্মীরা চিৎকার করে তাড়াতাড়ি বাইরে বেরিয়ে যেতে বলেন দর্শনার্থীদের। বাইরের দর্শনার্থীরা যাতে ভিতরে না প্রবেশ করেন, সেই চেষ্টাও করেন তাঁরা। কিন্তু পুলিশের কথায় কেউ কান দেননি। আর তার ফলেই এত বড় বিপর্যয় হয় বলে ধারণা গোয়েন্দাদের।
এই ক্ষেত্রে মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য যে বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়োগ করা হয়েছিল, তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গোয়েন্দারা। কারণ, যে নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়োগ করা হয়েছিল, তা কোনও বিশেষ সংস্থা থেকে নয়। এলাকার যুবকদেরই নিরাপত্তারক্ষী হিসাবে নিয়োগ করেছিলেন পুজো কমিটির সদস্যরা। তাঁদের কারও ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার বিশেষ প্রশিক্ষণই ছিল না। এই ব্যাপারে আরও তথ্য পেতে পুজো কমিটির সদস্যদের জেরা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
