অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় খুলে দিয়েছে সম্ভাবনার দ্বার। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলার বাস্তব আশা জাগিয়েছে বাংলাদেশ। সাফল্যের সঙ্গে সবসময় বয়ে আসে আরও ভালো করার চাপও। তবে ফাইনালের এই হাতছানিকে বাড়তি চাপ নয়, বরং ভালো করার প্রেরণা হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
যদিও সমীকরণ মোটেও সহজ নয় বাংলাদেশের জন্য। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের চক্রে বাংলাদেশের বাকি আর তিন সিরিজ ও ছয় টেস্ট। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচগুলোর মধ্যে মধ্যে জিততে হবে অন্তত চারটি।
যথেষ্ট নয় শুধু সেই চার জয়ও। সঙ্গে ড্র করতে হবে অন্তত একটি ম্যাচ। নিজেরা তা করতে পারলে অন্যান্য দলের ফলাফল পক্ষে থাকলে মিলবে ফাইনালের টিকেট। সেই অভিযানে মিরপুরে বুধবার শুরু হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগের তিন চক্র বাংলাদেশ শেষ করেছে তলানির দিকে থেকে। এবার ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই জয়ের পর অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে ডারউইনে ঐতিহাসিক সাফল্যের সৌজন্যে শান্তদের সামনে এখন সুযোগ অভাবনীয় কিছু করার।
এই হাতছানির যেমন রোমাঞ্চ আছে, পাশাপাশি আছে প্রত্যাশার ভারও। তবে বাংলাদেশ অধিনায়কের ভাবনা ভিন্ন। স্বপ্নের ফাইনালের সমীকরণে তাকিয়ে ম্যাচের আগের দিনের সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বললেন, এটিই তাদের চালিকাশক্তি।
“এটা (ফাইনাল খেলার সমীকরণ) আমার কাছে চাপ নয়, প্রেরণার। টেস্ট ক্রিকেটে এরকম সমীকরণের অনেক কিছু সামনে আসছে, এটা প্রেরণাদায়ক। চাপ বলব না কারণ, যখন প্রস্তুতি শুরু করেছি বা সিরিজ নিয়ে কথা বলেছি, চিন্তা করেছি যে গত কয়েকটা সিরিজ বা গত কয়েক বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেটটা কীভাবে খেলছি।”
তবে সতর্কতাও আছে তার কণ্ঠে। ফাইনাল খেলার স্বপ্নে বুদ হয়ে নিজেদের প্রক্রিয়া ছেড়ে বেরিয়ে নতুন কিছু করারও পক্ষে নন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।
“আমরা বাড়তি কোনো কিছু করতে চাই না। আমাদের প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করতে চাই। যে জিনিস পারি, ওই জিনিসটা শতভাগ দিয়ে করতে চাই। তাই এখানে আমি কারও কাছ থেকে বাড়তি কোনো এফোর্টও চাই না। এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ অবশ্যই। তবে আমরা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যেভাবে ফল পাচ্ছি, সেটাই বাস্তবায়ন করতে চাই।”
প্রক্রিয়ায় থাকতে চান বলেই ফাইনাল সম্ভাবনা নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে চাইলেন না অধিনায়ক। এমনকি এই সিরিজের পরের টেস্টেও নয়, স্রেফ মিরপুর টেস্ট নিয়েই ভাবছেন তিনি।
“সত্যি বলতে তেমন কিছু নেই মাথায়। আমি শুধু এই ম্যাচের কথা ভাবছি, এমনকি এই সিরিজের কথাও নয়। দল হিসেবেই আমরা শুধু চিন্তা করি যে, এই ম্যাচ বা সিরিজটি কীভাবে খেলব। আমরা যদি এই ধরনের সিরিজ বা ম্যাচ জিততে পারি, সামনে থাকা লক্ষ্যগুলোও পূরণ হয়ে যাবে।
“দল হিসেবে আমরা সবসময় ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণের ব্যাপারে চিন্তা করি। গত কয়েক বছরে এটিই করেছি। তাই আমি অনেক দূরের কিছু চিন্তা করছি না। এটিই মাঠে আমাদের ভালো খেলতে সাহায্য করে।”
