নিজস্ব প্রতিবেদক · ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২৩ পূর্বাহ্ন
সিলেট নগরের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় আধুনিক পার্ক নির্মাণ করতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ জন্য জায়গাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। পার্কটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী।
একই সঙ্গে সিলেটের কিন ব্রিজের পাশে নতুন ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ এবং সুরমা নদীর ওপর ধনপুর এলাকায় আরেকটি সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কথা জানিয়েছেন তিনি। নগরের যানজট, জলাবদ্ধতা ও বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনসহ বেশ কিছু উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার সিলেটের ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) কার্যালয়ে ‘মাহা-ইমজা অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মন্ত্রী বলেন, সিলেটকে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নগরের সৌন্দর্যবর্ধন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সিলেটের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ১৮৮ একর জমিতে নতুন বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নে ৫ হাজার ৩২৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের কথাও বলেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী করার লক্ষ্য রয়েছে। নগরের যানজট কমাতে বিমানবন্দর থেকে আম্বরখানা পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণ এবং খাদিমনগরের সাহেবের বাজার থেকে কালাগুল বাজার হয়ে বাইপাস পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এ ছাড়া চেঙ্গেরখাল এবং সুরমা-কুশিয়ারা নদী থেকে পানি এনে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের একটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
সিলেটের কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমানো ও কৃষিকাজে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ট্রাক্টর বিতরণের পরিকল্পনার কথা জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিমানবন্দর এলাকায় ঢাকা শ্যামপুরের আদলে কোল্ড স্টোরেজ-সংলগ্ন আধুনিক কৃষিপণ্য প্যাকেজিং হাউস নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি।
বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্তমান জাপান সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাপানের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় মাতারবাড়ী ও মেট্রোরেল প্রকল্পের মতো উদ্যোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
নগরের নিরাপত্তা জোরদার এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু, ড্রোন ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানান মন্ত্রী। অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে সিলেটকে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
ইমজার সভাপতি ও যমুনা টেলিভিশনের সিলেট ব্যুরোপ্রধান মাহবুবুর রহমান রিপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক সজল ছত্রী। এ ছাড়া বক্তব্য দেন প্রবীণ সাংবাদিক ও ইমজার সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির, কামকামুর রাজ্জাক রুনু, সংগ্রাম সিংহ ও দেবব্রত ঘোষ চৌধুরী। পরে দাবার চাল দিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
