মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভের’ নীতি নির্ধারণী বৈঠকের আগে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে মন্দা ভাব দেখা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২১ মিনিটে স্পট গোল্ড বা তাত্ক্ষণিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক তিন শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার চার দশমিক ৫৫ ডলারে নেমে এসেছে।
একই সময়ে ডিসেম্বরে হস্তান্তরের জন্য মার্কিন ফিউচার গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স চার হাজার হাজার ১৭ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী মার্কিন ডলার দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থান করছে। এতে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে ডলার-ভিত্তিক স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ফলে স্বর্ণের চাহিদা বিশ্ববাজারে কিছুটা কমেছে।
আর্থিক বিশেষজ্ঞ ও গবেষণা সংস্থা টেস্টাইলাইভের গ্লোবাল ম্যাক্রো প্রধান ইলিয়া স্পিভাক জানান, গত সপ্তাহে স্বর্ণের দরপতনের পর বাজারে এক ধরনের স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা চলছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর যদি তিন হাজার ৯০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা স্পর্শ করে বা ভেঙে যায়, তবে আগামী দিনে এটি আরও কমে তিন হাজার ৮০০ ডলারে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি সপ্তাহে ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ স্বল্পমেয়াদী সুদের হার বৃদ্ধি নাও করতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সুদের হার উচ্চ রাখার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। উচ্চ সুদের হারের এই প্রবণতা অ-লাভজনক সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের সার্বিক চাহিদাকে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নতুন সামরিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার ও ধাতব বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করে রেখেছে। স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে রুপার দাম দুই দশমিক এক শতাংশ কমে আউন্স প্রতি ৫২ দশমিক ৭৭ ডলার এবং প্লাটিনামের দাম দুই দশমিক এক শতাংশ কমে এক হাজার ৪৯৫ দশমিক ৬২ ডলারে নেমে এসেছে।
