Published on
:
2 min read
মহিলাদের জীবনে মাসিক বা পিরিয়ডের দিনগুলো বেশ কঠিন হয়ে ওঠে। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এই সময়ে মুড সুইং থেকে শুরু করে পেটে তীব্র যন্ত্রণা—নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাদের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পিরিয়ডের দিনগুলোতে তাঁর স্বামী তথা অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডা কী ভাবে তাঁর খেয়াল রাখেন এবং মানসিক ও শারীরিক স্বস্তি দেন, তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রশ্মিকা মন্দানা।
‘মিড-ডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রশ্মিকা জানান, পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগেই তিনি বিজয়কে তা জানিয়ে দেন, যাতে তিনি মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকতে পারেন। তিনি বলেন, ‘যদি কোনও কারণ ছাড়াই আমার মন খারাপ থাকে, আমি তাঁকে জানাই যে কদিনের মধ্যে আমার পিরিয়ড শুরু হবে এবং আমার তোমাকে পাশে প্রয়োজন। স্বামী হিসেবে একজন পুরুষের কাছ থেকে এর বেশি আপনি আর কীই বা আশা করতে পারেন? তাঁরা তো আর আমাদের জরায়ু বের করে নিতে পারবেন না! তবে এটা জেনেই শান্তি লাগে যে সে পাশে আছে। সে আমার পেটে হালকা হাত বুলিয়ে দেয়, হাত-পা টিপে দেয়।’
পিরিয়ডের ব্যথায় কি সত্যিই মাসাজ উপকারী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেটে বা তলপেটে হালকা মাসাজ করলে অনেক মহিলার জন্যেই পেশির ক্র্যাম্প কমাতে সাহায্য করে। তবে হাত বা পা টিপে দেওয়া সরাসরি জরায়ুর ব্যথা না কমালেও, শরীরের পেশি শিথিল করতে, মানসিক চাপ কমাতে এবং সামগ্রিক স্বস্তি দিতে দারুণ কাজ করে। তলপেটে গরম জলের সেঁক দেওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং হালকা স্ট্রেচিং বা হাঁটাচলা করা অভ্যাসে অনেকটাই আরাম পাওয়া যায়। তবে ব্যথা যদি অসহ্য হয়, তবে অবহেলা না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ এই ধরনের উপসর্গ এন্ডোমেট্রিয়োসিস বা ফাইব্রয়েড-এর কারণেও হতে পারে।
পিরিয়ড চলাকালীন শরীরে কী কী শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে?
মাসিকচক্রে হরমোনের ওঠানামার কারণে শরীর ও মনে নানা লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
শারীরিক লক্ষণ: মাথাব্যথা, ক্লান্তি, পেটে অসহ্য ব্যথা, ব্রণের সমস্যা, ঘুমের ধরন বদলে যাওয়া, ব্লোটিং এবং স্তনেব্যথা।
মানসিক লক্ষণ: খিটখিটে মেজাজ, উদ্বেগ বা অ্যাংজ়াইটি, মনমরা ভাব বা লো মুড কিংবা মুড সুইং।
পুরুষরা কী ভাবে এই দিনগুলোতে সঙ্গীর পাশে থাকতে পারেন?
রশ্মিকা ও বিজয়ের এই বোঝাপড়ার মতো দম্পতিরা চাইলে কিছু বিষয়ে খেয়াল রেখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারেন।
সঙ্গীর অস্বস্তি বা মেজাজ পরিবর্তনের কারণ বিচার না করে তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা।
নিজে থেকে অনুমান না করে সঙ্গীকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা যে এই মুহূর্তে তাঁর ঠিক কী প্রয়োজন। তা শারীরিক সান্নিধ্য হতে পারে, ব্যক্তিগত জায়গা হতে পারে কিংবা ঘরের কোনও কাজে সাহায্য হতে পারে।
পিরিয়ড বা হরমোনের পরিবর্তন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা সম্পর্কের বোঝাপড়াকে আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করে।