সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে জর্ডানের বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিন শিশু ও এক নারী রয়েছেন। জর্ডানের একটি গির্জায় প্রাণঘাতী হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এ ঘটনার পর দুই দেশের প্রধান সীমান্ত পারাপার বন্ধ করে দিয়েছে সিরিয়া।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আলজাজিরা ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর) সিরিয়ার দেরা ও সুয়েইদা প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালায় জর্ডান।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, গত শুক্রবার দেশটির কারাক প্রদেশের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলার জবাবে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। গির্জায় ওই হামলায় অন্তত নয়জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন।
জর্ডানের সামরিক বাহিনীর দাবি, সিরীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য হতাহত হয়েছেন। পাশাপাশি তাদের একাধিক যানবাহন ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে জর্ডানের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে সিরিয়া। দেশটির সরকার জানিয়েছে, কোনো ধরনের পূর্বসমন্বয় বা অবহিতকরণ ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দামেস্ক।
সিরিয়ার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় দেরা ও সুয়েইদা প্রদেশের গ্রামীণ এলাকার অন্তত চারটি স্থানে হামলা চালানো হয়। পরে ঘটনাস্থলগুলো থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা।
দেরা প্রদেশের আল-তাই গ্রামের একটি তাঁবুতে হামলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হন। তাঁদের মধ্যে একজন পুরুষ, একজন নারী ও তিন শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের আরও তিন সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
একই প্রদেশের আল-শাইয়া এলাকায় হামলায় ৮০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ছাড়া মুজাইরিব শহরের আইন আল-বাসাল এলাকায় একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তবে সেখানে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সুয়েইদা প্রদেশের শাহবা শহরে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রাণ হারান।
বিমান হামলার পর জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ নাসিব সীমান্ত পারাপার বন্ধ করে দিয়েছে দামেস্ক। এতে ওই পথে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন স্থগিত রয়েছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন। আলজাজিরাকে তিনি জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করবে সিরিয়া।
