বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ হামিদুর রহমান ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোর্দ্দখালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আক্কাস আলী এবং মাতার নাম কায়দাছুন নেছা। অতি শৈশব থেকেই বাস্তবতার সঙ্গে তাকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়েছে। দারিদ্র্যের কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হলেও জীবন সংগ্রামী হামিদুর পিছিয়ে থাকতে চাননি। তাই ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। ২৫ মার্চ ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অতর্কিত হামলা চালালে হামিদুর রহমান দেশমাতৃকার মুক্তির স্বপ্নে যোগ দেন মুক্তিবাহিনীতে-অংশগ্রহণ করেন একের পর এক যুদ্ধে।
১৯৭১-এর অক্টোবর। হামিদুর রহমান মুক্তিবাহিনীর সাহসী সদস্য হিসাবে যুদ্ধ করছিলেন সিলেটের শ্রীমঙ্গল এলাকায়। সেখানে অবস্থিত ধলই বিওপিতে পাকিস্তানিদের শক্ত ঘাঁটি দখল করতে পারলে মুক্ত করা যায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ২৮ অক্টোবর অতি প্রত্যুষে মুক্তিবাহিনী শুরু করল আক্রমণ। চা বাগানের ভেতর হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে গেলেন হামিদুর তার দলের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কাইয়ুমের নির্দেশে একটি হালকা মেশিনগান সঙ্গে নিয়ে। শত্রু ঘাঁটির একেবারে কাছে গিয়ে তিনি আকস্মিক হামলা চালালেন শত্রু দলের ওপর। নিহত হলো প্রতিপক্ষের অধিনায়কসহ কয়েকজন পাকিস্তানি সৈন্য। শত্রু সৈন্যরা পরিস্থিতি সামলে নিয়ে শুরু করল পালটা আক্রমণ। কিন্তু হামিদুর রহমান পিছু হটলেন না। প্রাণপণে লড়াই চালিয়ে গেলেন। হঠাৎ একটি বুলেট এসে বিদ্ধ হলোÑ তার কপালে। হামিদুর রহমান বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে শহীদ হলেন। পাঁচ দিন অবিরাম যুদ্ধের পর মুক্ত হলোÑ ধলই বিওপি। হামিদুর রহমানের আত্মত্যাগ রচনা করল আমাদের মুক্তির পথ। মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত হন।
এ মহান বীরের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৪-০১-২০০৮ তারিখে শহিদের নিজগ্রাম খোর্দ্দখালিশপুরের নাম পরিবর্তন করে ‘হামিদ নগর’ রাখা হয়েছে এবং সেখানে তার নিজ নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজ মাঠে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ সিপাহি হামিদুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার। এ ছাড়া ঝিনাইদহ জেলা শহরের স্টেডিয়ামটি তার নামে নামকরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ তার স্মরণে একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ সরকার তার পৈতৃকভিটায় একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছে।