মেট্রোরেলের দুই লাইনের চার প্যাকেজের চুক্তি সই
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) আওতায় এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট)-এর চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি সই হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে এমআরটি লাইন-৬ ডিপো এলাকায় অবস্থিত মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে আড়ম্বরপূর্ণ এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির আহমদ।
আরও পড়ুন
এছাড়া অনুষ্ঠানে জাপান দূতাবাস, জাইকা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং চুক্তি সই করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাক্ষরিত চারটি প্যাকেজের আওতায় এমআরটি লাইন-১-এর দুটি এবং এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট)-এর দুটি বড় অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করা হবে। এমআরটি লাইন-১-এর কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-২-এর অধীনে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণের অংশ হিসেবে ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড ও অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ৪৯টি আধুনিক স্থাপনা তৈরি হবে, যার দায়িত্ব পেয়েছে চীনের সিনেহাইড্রো-এসইবিসিএল জয়েন্ট ভেঞ্চার।
আরও পড়ুন
অন্যদিকে, এই লাইনের কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৭-এর আওতায় পাতাল পথ থেকে উড়াল পথের ট্রানজিশন পয়েন্ট থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক শুন্য শুন্য ৭ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট এবং জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুল এই ৩টি উড়াল স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এই কাজটির চুক্তি হয়েছে সিআরইসি-মিল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চারের সঙ্গে।
একই অনুষ্ঠানে এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট)-এর কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০২-এর চুক্তি সই হয় সিপিসি-হ্যানিল জয়েন্ট ভেঞ্চারের সঙ্গে। এই চুক্তির অধীনে ডিপোর প্রশাসনিক ভবন (ওসিসি, ডিসিসি), স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, ওয়ারহাউজ ও ওয়ার্কশপ শেডসহ সার্বিক পূর্ত কাজ সম্পন্ন হবে।
পাশাপাশি সিআরইসি-মিল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চারের সঙ্গে সই হওয়া কন্ট্রাক্ট প্যাকেজ সিপি-০৩-এর আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিন বাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট সাড়ে ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার এলিভেটেড রেলওয়ে লাইন ও ৫টি উড়াল স্টেশন হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিন বাজার ও ভাটারা নির্মিত হবে।
জয়ন্ত সাহা/রিফাত/
আরও পড়ুন
তরুণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব নিশ্চিতকরণে জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে এবং প্রমোশন অব উইমেন্স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং (পাওয়ার) প্রকল্পের আওতায় ঢাকায় ফ্রম অ্যাসপিরেপ্রেশন টু অ্যাচিভমেন্ট: ন্যাশনাল সামিট অন ইয়ং উইমেনস ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে নীতি নির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন অংশীদার, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং তরুণ নারীরা অংশ নেন।
বিশেষ করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণ নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব এবং সহনশীলতা জোরদার করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল।
আরও পড়ুন
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইউনিসেফ বাংলাদেশ-এর শিক্ষা প্রধান দীপা শঙ্কর এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং ‘আর্ন’ প্রকল্পের পরিচালক কাজী মোখলেছুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দীপা শঙ্কর তরুণদের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষা ও দক্ষতা বিকাশের অপরিহার্যতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, “উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে সাধারণ বিকল্প হিসেবে না দেখে মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।” এ সময় তিনি তরুণীদের স্বাবলম্বী করতে সেভ দ্য চিলড্রেনের এই সময়োপযোগী উদ্যোগের সাফল্য কামনা করেন।
আরও পড়ুন
কাজী মোখলেছুর রহমান এই ধরনের প্রকল্পের লব্ধ অভিজ্ঞতাকে সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ‘আর্ন’ প্রকল্পসহ বিভিন্ন যুব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে কাজে লাগানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি তরুণীদের ক্ষমতায়নে সেভ দ্য চিলড্রেনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এর সাফল্য কামনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জনাব মাহদী আমিন বলেন, “বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রায়, বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের উন্নয়নে সেভ দ্য চিলড্রেনের এই ধরনের উদ্যোগ সরকারকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।”
প্রতিভার বাস্তব প্রয়োগ এবং দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “শুধুমাত্র সনদ অর্জনের চেয়ে বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেভ দ্য চিলড্রেনের মতো উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে সরকার তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে চায়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়নের জন্য বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। বক্তব্য শেষে তিনি প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত তরুণীদের অভিনন্দন জানান এবং আয়োজক সংস্থাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
দিনব্যাপী এই আয়োজনের শুরুতে তরুণ নারী অংশগ্রহণকারীদের জীবনের অনুপ্রেরণামূলক অভিযাত্রা তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে নীতিনির্ধারণী সংলাপ এবং প্যানেল আলোচনার মাধ্যমে তরুণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সহায়ক পরিবেশ শক্তিশালী করা এবং কর্মসংস্থানের ভবিষ্যতে তরুণ ও নিয়োগকর্তাদের মধ্যকার ব্যবধান কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। কৌশলগত আলোচনা, প্রদর্শনী ও নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে তরুণ নারীদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও নেতৃত্ব বিকাশের পথকে আরও সুগম করা।
পাওয়ার প্রকল্প
নারীর ক্ষমতায়ন ও সহনশীলতা বৃদ্ধি (পাওয়ার) প্রকল্প গার্লস এডুকেশন অ্যান্ড স্কিলস পার্টনারশিপ (জিইএসপি) তহবিলের আওতায় কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সি ২৬ হাজারের বেশি কিশোরী ও তরুণীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কাজ করছে। বিশেষ করে যারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নয় (NEET), তাদের কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও জীবনদক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সামাজিক বাধা দূর করায় প্রকল্পটি গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) শিক্ষা, পরিবেশবান্ধব দক্ষতা এবং যুব নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর (এফসিডিও) এবং ইউনিসেফের সহায়তায় সেভ দ্য চিলড্রেনের নেতৃত্বে ইউসেপ বাংলাদেশ, দ্য আর্থ এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর অংশীদারত্বে প্রকল্পটি মার্চ ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে।
নাঈম/
আরও পড়ুন
বিরামপুরের জব ফেয়ারে বদলাবে মানুষের চিন্তা-চেতনা: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->আজকের এই জব ফেয়ারের মাধ্যমে মানুষের চিন্তা-চেতনার পরিবর্তন ঘটবে। তরুণ-তরুণীরা নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের আয়োজন বেকারত্ব কমাতে এবং যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে দিনব্যাপী ‘জব ফেয়ার দিনাজপুর-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, রাজধানীকেন্দ্রিক কর্মসংস্থানের সুযোগের বাইরে উত্তরাঞ্চলের তরুণ-তরুণীদের জন্য নিজ এলাকায় চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। এতে তাদের কর্মজীবনে প্রবেশের পথ সহজ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
আরও পড়ুন
তিনি আরও বলেন, দিনাজপুরের তরুণ সমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। তাদের মেধা, যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারলে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলকে সম্ভাবনাময় ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করা সম্ভব হবে।
দিনব্যাপী এ চাকরি মেলায় দেশের ৯০টির বেশি দেশি-বিদেশি ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা এবং উন্নয়ন সংস্থা। মেলায় চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি সাক্ষাৎকার, জীবনবৃত্তান্ত জমা এবং কর্মসংস্থানবিষয়ক পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়।
আরও পড়ুন
দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলার মূল লক্ষ্য স্থানীয় পর্যায়ে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা।
দিনাজপুর-৬ সংসদীয় আসনের বিরামপুর, হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট উপজেলার চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এ মেলা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ ছাড়া দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং আশপাশের এলাকার তরুণ-তরুণীরাও এতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার (এসপি) জেদান আল মুসা পিপিএম, দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম এবং দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক।
এ ছাড়া বিরামপুর, হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ চাকরি মেলার মাধ্যমে স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগাযোগের পথ আরও সুগম হবে।
সুলতান/নাঈম
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর সফর বাংলাদেশ-জাপান সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
সিলেটে ইমজার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: খবরের কাগজ
-->প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, জাপানের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়বে বলে সরকার আশাবাদী।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে সিলেটে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) কার্যালয়ে ‘মাহা-ইমজা অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্য জাপানের গুরুত্ব অনেক। দ্বিপক্ষীয় সহায়তার ক্ষেত্রে জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অংশীদার। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। জাপানের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় মাতারবাড়ীসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এবং ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আরও পড়ুন
তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি নিয়ে কাজ চলছে। চুক্তিটি জাপানের পক্ষ থেকে যাচাইয়ের জন্য আগামী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপনের কথা রয়েছে। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বিভিন্ন পদ্ধতিগত জটিলতা দূর করা সম্ভব হলে এই চুক্তির বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়বে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাপানে গেছেন। সেখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তাঁরা আত্মবিশ্বাসী।
আরও পড়ুন
সিলেটের কৃষি উন্নয়ন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই। একটি ট্রাক্টর এক দিনে যে পরিমাণ জমি চাষ করতে পারে, সেই কাজ করতে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, ট্রাক্টর চালাতে এক দিনে প্রায় দুই লিটার ডিজেল লাগে। ফলে কৃষিকাজে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো গেলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।
তিনি বলেন, সিলেট সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে কৃষকদের মধ্যে ট্রাক্টর বিতরণ করা হয়েছে। কৃষির উৎপাদন বাড়াতে আগামী দিনে বিভিন্ন এলাকায় খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিলেটের কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কোথায় সেচের প্রয়োজন এবং কোথায় জলাবদ্ধতা দূর করা দরকার, তা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, সিলেট সদর উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। এসব জমির পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগাতে শুকনা মৌসুমে সেচের ব্যবস্থা এবং বর্ষা বা অতিবৃষ্টির সময় জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
সিলেটের কৃষিপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে সিলেট বিমানবন্দরের পাশে প্যাকেজিং হাউস নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকার শ্যামপুরের আদলে সেখানে একটি প্যাকেজিং হাউস করা হবে। এর সঙ্গে থাকবে কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের বর্তমান মেয়াদের মধ্যে সিলেটকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কৃষিপণ্য ও শাকসবজি রপ্তানিকারক এলাকায় পরিণত করা সম্ভব হবে। এ জন্য শাকসবজির উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কোন এলাকায় কোন ধরনের শাকসবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা বেশি, তা চিহ্নিত করে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে। এভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকার উপযোগী ফসল উৎপাদনে সম্পদ ও সহায়তা কাজে লাগানো গেলে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়বে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নের লক্ষ্যে সিলেটে ১৮৮ একর জমিতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) একটি প্রকল্প নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।তিনি বলেন, সিলেটে বর্তমানে দুটি বিসিক শিল্প এলাকা রয়েছে। সব মিলিয়ে সেগুলোর আয়তন প্রায় ৩০ একর। এর বিপরীতে নতুন করে ১৮৮ একরের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটবে। অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
ইমজার সভাপতি, যমুনা টেলিভিশনের সিলেট ব্যুরোপ্রধান ও দৈনিক যুগান্তরের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাহবুবুর রহমান রিপনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও এনটিভির সিনিয়র ক্যামেরাপারসন আনিস রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মাহা-ইমজা অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক ও ইমজার সাবেক সভাপতি সজল ছত্রী। শুভেচ্ছা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সময় টেলিভিশনের সিলেট ব্যুরো প্রধান ইকরামুল কবির, ইমজার সাবেক সভাপতি কাম কামুর রাজ্জাক রুনু, সংগ্রাম সিংহ, দেবব্রত ঘোষ চৌধুরী।
এসএন/
আরও পড়ুন
স্থানীয় সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্ষমতা উন্নয়নে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রণীত প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল বিষয়ে একটি অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের (এনআইএলজি) তৃতীয় তলার সেমিনার কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশস্থ সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহযোগিতায় ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন গো ফর ইমপ্যাক্ট কর্মসূচির আওতায় জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি)-এর উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (সচিব) জনাব মো. আমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব আজমান আহমেদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, এনআইএলজির প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ বিভাগের পরিচালক (যুগ্মসচিব) জনাব মো. কায়েসুজ্জামান। ম্যানুয়ালের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি এবং এনআইএলজির সহকারী পরিচালক জনাব মনিকা মিত্র।
আরও পড়ুন
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতিকে বিজ্ঞানসম্মত চর্চার সঙ্গে যুক্ত করার উপায় আমাদের প্রণয়ন করতে হবে, যাতে পরিবেশের ওপর সঠিক ও ইতিবাচক প্রভাব নিশ্চিত করা যায়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনাব আজমান আহমেদ চৌধুরী বলেন, আজকের এই আয়োজন সফল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তৃণমূল পর্যায়ে জলবায়ু-সহনশীল পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে
এনআইএলজির সাথে কাজ করে যাবে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ।
সভাপতির বক্তব্যে জনাব মো. কায়েসুজ্জামান বলেন, এই ম্যানুয়ালগুলো এনআইএলজির নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা জলবায়ু সহনশীল পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিজেদের দায়িত্ব আরও কার্যকরভাবে পালন করতে পারেন।
কর্মশালায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বগুড়া) ও বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এছাড়া নওগাঁ ও সাতক্ষীরা জেলার স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা ও কোইকা এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্যানেল আলোচকগণ নতুন প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালের ওপর তাদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়ে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, এই ম্যানুয়ালের আলোকে এনআইএলজি চলতি বছরের মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নওগাঁ ও সাতক্ষীরা জেলার ৫৫১ জন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ১৫টি ব্যাচে আবাসিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে।
গো ফর ইমপ্যাক্ট (GO4IMPact) প্রকল্প সম্পর্কে গো ফর ইমপ্যাক্ট (GO4IMPact) প্রকল্পের লক্ষ্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং পানি ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে ন্যায্য ও জলবায়ু সহনশীল মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অর্থায়নে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে রূপান্তর (সাতক্ষীরা) ও ইএসডিও (নওগাঁ)।
বিজ্ঞপ্তি/
