ছবি: সংগৃহীত
-->বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং এর পেছনের কারণ জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে ঢাকাস্থ গাজীপুর সাংবাদিক ফোরাম। প্রকল্পে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। ফোরামের মতে, গাজীপুরসহ এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ১৮ জেলার মানুষের স্বার্থ উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ফোরামের সভাপতি ফয়সাল আলম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হক বলেন, বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকার মানুষ দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে যানজট ও যাতায়াতের ভোগান্তি সহ্য করছেন। এত দীর্ঘ সময় দুর্ভোগ পোহানোর পর প্রকল্পটি বাতিল এবং নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ছয় লেনের মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত তাঁদের নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
বিবৃতিতে তারা বলেন, কেন প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, এর পেছনে কী যুক্তি রয়েছে এবং এতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ জড়িত কি না, তা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি, পরিকল্পনাগত ত্রুটি কিংবা অর্থের অপচয় হয়ে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি প্রকল্পের অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, যদি প্রকল্পে কোনো দুর্বলতা পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে তা সংশোধনের বিকল্প বিবেচনা না করে হঠাৎ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতোমধ্যে নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলা কতটা যৌক্তিক, তার ব্যাখ্যাও প্রয়োজন।
ফোরামের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অবকাঠামো ভেঙে নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট সড়কে যানজট ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। এতে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি এই সড়ক ব্যবহারকারী ১৮ জেলার যাত্রী ও পণ্য পরিবহনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জনগণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার আগে এর ব্যবহারযোগ্যতা, নতুন নির্মাণের ব্যয় এবং বিকল্প ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা জরুরি।
বিবৃতিতে তারা বলেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর মানুষ এমন একটি কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা প্রত্যাশা করে, যা যাতায়াতের সময় কমাবে এবং যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে। শেষ মুহূর্তে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, আর্থিক দায় ও যোগাযোগব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা করা উচিত।
ফোরামের নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিআরটি প্রকল্প বাতিল ও নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে স্বচ্ছ মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। গাজীপুরের মানুষের ১৪ বছরের দুর্ভোগ এবং ১৮ জেলার মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত, সাশ্রয়ী ও কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে বিবৃতিতে।
তপন/এসএন
