আজকের পত্রিকা ডেস্ক

পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা গেল ১০ বছর বয়সী এক শিশুটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় তার ৩৩ বছর বয়সী সৎবাবার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আর্জেন্টিনার সান্তিয়াগো দেল এস্তেরো প্রদেশে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম মেট্রোর বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তীব্র পেটব্যথা হওয়ায় শিশুটিকে তার মা স্থানীয় কোলোনিয়া ডোরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক নিশ্চিত করেন, শিশুটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ দিকে শিশুটির মা জানান, তার মেয়ের এখনো ঋতুস্রাব শুরু হয়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তের সময় শিশুটি তার সৎবাবা হুলিও ভিভাসকে নির্যাতনের জন্য দায়ী ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করে। অভিযোগ সামনে আসার পর তদন্তের দায়িত্বে থাকা কৌঁসুলি গিয়েরমো ফারিয়াস ভিভাসকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার সকালে তাঁকে আটক করে পুলিশ। ভিভাস শিশুটি ও তার মায়ের সঙ্গে থাকতেন বলে জানা গেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ তাঁর মুঠোফোনও জব্দ করেছে।
তদন্তকারীরা অভিযুক্তর মুঠোফোন পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে শিশুটির শারীরিক অবস্থা কিংবা তার নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানায়নি।
শিশুটির নানি নরমা গোমেস স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁর মেয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। ওই সম্পর্ক নিয়ে তিনি মেয়েকে সতর্কও করেছিলেন।
নিজের শৈশবের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন শিশুটির নানি। তিনি বলেন, আট বছর বয়সে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। নাতনির সঙ্গে যা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে গভীর বেদনা প্রকাশ করে ন্যায়বিচারের দাবি জানান তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে শিশুটির শিক্ষিকা লুক্রেসিয়া জানান, স্কুলে শিশুটির আচরণে অস্বাভাবিক কিছু তাঁর চোখে পড়েনি। শিশুটি শান্ত স্বভাবের এবং নিয়মিত বাড়ির কাজ সম্পন্ন করত। তার আচরণে কখনো এমন কিছু দেখা যায়নি, যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

