পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ ও সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্যের বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান কী হবে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর সে বিষয়ে ‘বিবেচনা’ করবেন বলে জানিয়েছেন তার তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে পিআইডি সম্মেলনকক্ষে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, “এই ব্যাপারে সরকারের ফাইনাল অবস্থান কী হবে, এটা নিশ্চয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে বিবেচনা করবেন এবং উনি উনার গুরুত্বপূর্ণ সফরটা শেষ করার পর হবে।”
আইজিপি আলী হোসেন ফকির সোমবার রাজধানীর চকবাজারের এক অনুষ্ঠানে বলেন, “আমাদের দায়িত্ব, আইন-সংবিধান অনুযায়ী যখন যেখানে যা প্রয়োগ করা দরকার, সেইটাই আমরা করব। যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাও করে, আমরা সেইটা করব।”
পুলিশের সমালোচনা করা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে আইজিপি বলেন, ‘মাদকের টাকা না পেলে’ সাংবাদিকরা লেখেন ‘পুলিশ অকার্যকর’।
সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা বললেও আইজিপি কেন ‘ক্রসফায়ার’ করার কথা বলেছেন এবং সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্যের জন্য তার ক্ষমা চাওয়া উচিত কি না, মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে তা জানতে চান এক সাংবাদিক।
জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর ইতোমধ্যে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আর বেশি আলোচনার প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না।
সোমবার আইজিপির ওই বক্তব্য নিয়ে দিনভর সমালোচনার পর রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আলী হোসেন ফকির ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করলেও এর মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কথা তিনি বোঝাননি।
সে প্রসঙ্গ ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “স্টেটমেন্টে আসলে তিনি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। মানে যে, ক্রসফায়ার করবেন মানে, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড করবেন বলে যে ফ্রেমিং হয়েছে…। তার বক্তব্য থেকে এই ধরনের একটা ইন্টারপ্রিটেশন যে অসম্ভব তাও না, কেউ কেউ করেছেনও।
“তারপর তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে কিন্তু ক্লিয়ার করেছেন, যে তিনি আসলে এটা কেন বলেছেন, কি উদ্দেশ্য । অবশ্যই তিনি সেটা মিন করেননি, একই সাথে সাংবাদিকদের সম্পর্কেও যে বক্তব্যটা জেনারালাইজ করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে সেটার ব্যাপারেও তার বক্তব্য আছে।”
জাহেদ উর রহমান বলেন, “যদি আজকে এমন হত যে ওই বক্তব্যের পর উনি (আইজিপি) গতকাল কিছু বলেননি, তাহলে আজকে মনে হয় এটা আলোচনার ব্যাপার হতে পারত। উনি বলেছেন এবং আমার মনে হয় ওটার পরে জিনিসটা ক্লিয়ার হচ্ছে।"
আরেক সাংবাদিক উপদেষ্টার কাছে জানতে চান, আইজিপি এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন কি না।
জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, “উনার যে ব্যাখ্যা তাতে কিন্তু এটা ক্লিয়ার হয়েছে, তার মানে যে মানুষটা মনে করেন যে তার বক্তব্যটা মিসমিউনিকেট করেছে। মানুষের মধ্যে ভুল তথ্য দিয়েছে, ভুল বার্তা দিয়েছে, নিজে থেকে তিনি এটাকে আবার ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।
“আমার মনে হয় তাতে বোঝা যায় যে আগের বক্তব্যটা নিয়ে আসলে আর খুব বেশি কথা বলার দরকার নেই।”
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ইশরাক হোসেনকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাহলে আইজিপর ক্ষেত্রে সরকার কী করবে, সেই প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক।
জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, "সিদ্ধান্ত... ধরুন এটা গতকাল হয়েছে, একজন আইজিপির ব্যাপারে যদি কোনো অন্যান্য সিদ্ধান্ত থাকারও প্রবণতা থাকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তো দেশে নাই। এটা উনি বিবেচনা করবেন–উনি কি করবেন। আবারো বলছি, এটা উনি বিবেচনা করবেন।
“কিন্তু আমি আবারও বলছি, যখন কেউ তার একটা অবস্থান ধরে রাখছেন না, তখন মনে হয় আমরা একটু বেশি আনকাইন্ড হচ্ছে কিনা তার প্রতি।"
