শিশুদের জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয় সম্পর্কে সচেতন করতে রাজধানীর ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলে পোস্টার প্রদর্শনী ও পরিবেশ শিক্ষা কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিইং বাংলাদেশ (আইডব্লিউবি) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট (ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট) যৌথভাবে এ আয়োজন করে। এতে প্রায় ১৫০ জন শিশু অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক এম এ মান্নান মনির। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রধান কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সৈয়দা অনন্যা রহমান।
‘পাখি ও ঔষধি গাছ বাঁচাই, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করি’ শীর্ষক এ আয়োজনে স্থানীয় পাখি, ঔষধি গাছ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি শিশুদের অংশগ্রহণে আলোচনা ও পরিবেশবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
কুইজ প্রতিযোগিতাটি পরিচালনা করেন ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিইং বাংলাদেশের সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা জাকারিয়া মোহাম্মদ। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুরা প্লাস্টিক দূষণ, বন উজাড়, পাখি ও গাছের আবাসস্থল এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ ও প্রভাব সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ মান্নান মনির বলেন, ‘শিশুরা যদি ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক বুঝতে শেখে, তবে তারা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে তাদের আচরণে স্থায়ী পরিবর্তন আসবে।’
বিশেষ অতিথি সৈয়দা অনন্যা রহমান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শিশুদের পরিবেশ শিক্ষা দিতে পারলে তারা ভবিষ্যতে সচেতন নাগরিক হিসেবে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নেতৃত্ব দিতে পারবে। কারণ পরিবেশ শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়, এটি একটি জীবনদর্শন।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষিকারা পরিবেশ রক্ষায় শৈশব থেকেই সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, স্কুলের বাগানে কাজ করা, পাখি পর্যবেক্ষণ, বর্জ্য পৃথকীকরণ, কম্পোস্ট তৈরি ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মতো হাতে-কলমে কার্যক্রম শিশুদের প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রযুক্তি ও নীতিমালার পাশাপাশি মানুষের দৈনন্দিন আচরণে পরিবর্তন আনা জরুরি। পরিবেশ শিক্ষা মানুষের জ্ঞান, মনোভাব ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। ইউনেস্কোর পরিবেশ ও জলবায়ু শিক্ষাবিষয়ক ঘোষণায় গুরুত্ব দেওয়া জ্ঞান, সচেতনতা, দৃষ্টিভঙ্গি, দক্ষতা ও অংশগ্রহণের বিষয়গুলোও এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত।
আয়োজক সংস্থা দুটির পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিবেশ শিক্ষা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। শিশুদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার জ্ঞান ও সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে তারা ভবিষ্যতে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিইং বাংলাদেশ ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষিকারাও উপস্থিত ছিলেন।
