দংশন করা সাপটিকে ব্যাগে ভরে হাসপাতালে এলেন রব্বানী!


নড়াইলের সদর উপজেলায় সাপ ধরে সাপের খেলা দেখাতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হওয়ার পর সেই সাপটিই ব্যাগে ভরে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন গোলাম রব্বানী (৫৫) নামে এক ব্যক্তি।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে সাপটি সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে যান তিনি। গোলাম রব্বানী ওই গ্রামের মৃত জাফর মুন্সীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে বুড়িখালী গ্রামের হান্নান খানের বাড়িতে একটি সাপ ঢুকে পড়ে। সাপের ভয়ে ঘরে কেউ প্রবেশ করছিলেন না। পরে সাপটি ধরতে এগিয়ে যান একই গ্রামের গোলাম রব্বানী। সাপটি ধরার পর গোলাম রব্বানী কিছুসময় সাপের খেলা দেখান। পরে সাপটি একটি ব্যাগে ভরার সময় তাঁর ডান হাতে কামড় দেয়।
এরপর আহত অবস্থায় সাপটিকে ব্যাগে ভরে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে যান গোলাম রব্বানী। সেখানে জরুরি বিভাগে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে গোলাম রব্বানী নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গাজীপুরে ধর্ষণ মামলায় ভুয়া চিকিৎসক গ্রেফতার
গাজীপুর সদর উপজেলায় এক নারীকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আজিজুল হক (জয়নাল) (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি মনিপুর বাজার এলাকার ‘আর রহমান ডেন্টাল কেয়ার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ডেন্টিস্ট পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী (৩০) তাঁর ফুফুর দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আজিজুল হকের সঙ্গে পরিচিত হন। এরপর বিভিন্ন সময়ে আজিজুল তাঁকে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী। এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করার সময় আজিজুল হক ও তাঁর সহযোগী মুরাদ হোসেনের সঙ্গে ওই নারীর দেখা হয়। জরুরি কথা বলার কথা বলে তাঁকে সদর উপজেলার নৌলাপাড়া এলাকার দিবানিশী মোড়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর আজিজুল তাঁর সহযোগীর সহায়তায় ওই নারীকে একটি ঘরে নিয়ে আটকে রাখেন। পরে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর পর্যন্ত ওই নারীকে ঘরটিতে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা বাইরে গেলে কৌশলে সেখান থেকে বেরিয়ে ভবানীপুর এলাকায় তাঁর ছোট বোনের ভাড়া বাসায় আশ্রয় নেন তিনি। পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। আজিজুল হকের বিরুদ্ধে এর আগেও ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় তিনি এর আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং জেলও খেটেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজিজুল নিজেকে সাংবাদিক ও জামায়াতের কর্মী হিসেবেও পরিচয় দিতেন। তবে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে প্রায় এক বছর আগে তাঁকে দলীয় কর্মী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতির একটি ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজিজুল নিজেকে ডেন্টিস্ট ও হাকিম এবং ডাঃ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। তাঁর চিকিৎসার তালিকায় চর্ম ও যৌনরোগ, হাঁপানি, বাতব্যথা, পক্ষাঘাত, সাদাস্রাব, অনিয়মিত মাসিক, বন্ধ্যত্ব, মৃগীরোগ, নাকের পলিপ, গলার টনসিল, অর্শ, কিডনিতে পাথর, স্তন ও জরায়ুর টিউমারসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার কথা উল্লেখ রয়েছে তার যোগাযোগ কার্ডে। তবে এসব রোগের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তাঁর প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও স্বীকৃত পেশাগত নিবন্ধন না থাকলেও নিজেকে ডাক্তার বলে পরিচয় দিতেন। আর এসব কর্মকাণ্ডে ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ঘটনায় এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন জানান, ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে আজিজুল আত্মগোপনে ছিলেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে মনিপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার দুপুরে তাঁকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও জানান, আজিজুল এর আগেও ভুয়া চিকিৎসক-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন।

চৌদ্দগ্রামে নবজাতক বিক্রির ঘটনায় নার্সসহ আটক ৪
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ধর্ষণের পরবর্তীতে গর্ভধারণ ও প্রসবের পর নবজাতক বিক্রির ঘটনায় চৌদ্দমাম মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। ভিকটিম নারী(২১) বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ধর্ষণ মামলা ও নবজাতক বিক্রির ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মানব পাচার মামলা দায়ের করে। ধর্ষণ মামলার আসামীরা হলেন- উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে আবির হোসেন (১৯), আমির হোসেনের স্ত্রী জোবেদা আক্তার সানজিদা (৩৫), মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে নজরুল ইসলাম মনির (৪৮), প্রয়াত আনসার আলীর ছেলে হাজী মোস্তফা (৬৫)। এদের মধ্যে জোবেদা আক্তার ও নজরুল ইসলামকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুর রহমান টুকু বাদী হয়ে দায়ের করা মানব পাচার মামলায় আসামীরা হলেন- কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের আমির হোসেনের স্ত্রী জোবেদা আক্তার সানজিদা, প্রয়াত তাজুল ইসলামের ছেলে নজরুল ইসলাম মনির, প্রয়াত আনসার আলী মোল্লার ছেলে হাজী মোস্তফা মোল্লা, নাজমুল হুদা ড্রাইভারের স্ত্রী ও প্রসব করানো প্রাইম হসপিটালের নার্স স্বপ্না বেগম, একই ইউনিয়নের হিঙ্গুলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো: রিপন, প্রাইম হসপিটালের দুই ম্যানেজার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নাজিম উদ্দিন, ব্রাহ্মণপাড়া থানার ষাটশলা গ্রামের কাজী মোজাহেরুল ইসলামের ছেলে কাজী বাছির। তাদের মধ্যে নার্স স্বপ্না বেগম ও রিপনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তথ্যটি নিশ্চিত করে সোমবার সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আরিফ হোছাইন বলেন, আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিক্রি করা নবজাতক উদ্ধার করে মায়ের হেফাজতে দেয়া হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, খাদিজা আক্তার ও আবির হোসেন প্রতিবেশী। দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর বিয়ের প্রলোভনে খাদিজার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এই ঘটনায় খাদিজা গর্ভবতী হয়ে গেলে ৯ মাস পূর্বে আবিরকে জানালে তাকে ভ্রুণ নষ্ট করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আবিবের মা বাবা ও স্থানীয় সালিশদাররা খাদিজাকে বিয়ের আশ্বাস দেয়। এই সুযোগে আবিরকে তারা অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। সর্বশেষ গত ২৩ অক্টোবর চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ বেসরকারি প্রাইম হসপিটালে খাদিজা পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। এরপর ওই হসপিটালের নার্স স্বপ্লা, দুই ম্যানেজার কাজী বাছির ও নাজিম উদ্দিনের পরষ্পর যোগসাজশে হসপিটালের বিল পরিশোধ করতে নবজাতককে ৫৫ হাজার টাকায় একই ইউনিয়নের হিঙ্গুলা গ্রামের এক দম্পতির কাছে বিক্রি করে দেন। পুলিশ ও ডিবির অভিযানিক দল ২৬ অক্টোবর ভোররাতে অভিযান চালিয়ে হিঙ্গুলা গ্রাম থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসে।

শাক তুলতে যাওয়ার পথে কিশোরীকে ধ'র্ষণ, যুবক আটক
বরিশালের উজিরপুরে ১৪ বছরের এক কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্তকে আটক করেছে এসআরবি-৮। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বরিশালের বানারীপাড়া থানাধীন কুন্দিহার গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত মোঃ জাকির হোসেন বরিশালের উজিরপুর থানাধীন হারতা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে এসআরবি-৮ এর বরিশাল সদর দপ্তরের মিডিয়া অফিসার সাথী সহকারী পুলিশ সুপার আক্তার জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীকে তাদের প্রতিবেশী মোঃ জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ অক্টোবর সকাল ১০ টার দিকে কিশোরী বাড়ির পাশে শাক তুলতে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য এসআরবি-৮ বরিশালের অধিনায়ক বরাবর পত্র প্রেরণ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এসআরবি-৮ এর সদর কোম্পানি বরিশালের আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বরিশালের উজিরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ব্যতিক্রমী আয়োজনে বউমেলা, পুরুষের প্রবেশ যেখানে নিষেধ!
পুরুষের প্রবেশ নিষেধ, কেনাকাটার অধিকার শুধু নারীদের—এমনই ব্যতিক্রমী নিয়মে বংশ পরামপরা ঐতিহ্য ধরে রেখেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর বউমেলা। মেলায় দোকান সাজিয়ে বসেন নারী-পুরুষ উভয়েই, তবে ক্রেতা ও দর্শনার্থী হিসেবে প্রবেশ করতে পারেন শুধু নারীরা। লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে প্রতিবছর বসা এই মেলায় ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে নারীদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ফুলবাড়ী পৌর এলাকার সুজাপুর গ্রামে সর্বজনীন দুর্গামন্দির প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় রেশমি চুড়ি, আলতা, চিরুনি, হাঁড়ি-পাতিল, খুন্তি-কড়াই, পানের বাটা, খেলনা, মিষ্টান্নসহ নানা ধরনের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। নারীদের প্রসাধনসামগ্রী, শিশুদের খেলনা, হস্তশিল্প, মৃৎশিল্প ও গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর পাশাপাশি ছিল বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের দোকান। সকাল থেকেই মেলাকে ঘিরে চলে প্রস্তুতি। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই বাড়তে থাকে ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড়। শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সী নারীদের পদচারণে জমে ওঠে মেলা। পুরুষ ক্রেতাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে ঘুরে পছন্দের পণ্য কেনাকাটা করেন। মেলায় কেনাকাটা করতে আসা তাপসি রানী ও অর্পনা রায় বলেন, এখানে শুধু নারীরাই ক্রেতা। নারী বিক্রেতাও রয়েছেন অনেক। ফলে তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাঘুরি ও কেনাকাটা করতে পারেন। তাঁদের কাছে এই মেলার আনন্দ অন্য রকম। মেলার আয়োজক সুজাপুর সর্বজনীন দুর্গামন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অশেষ রঞ্জন দাস বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে প্রতিবছর পূজার পরদিন এ মেলার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় জমিদার বিমল বাবু প্রায় এক শ বছর আগে মেলাটি শুরু করেন। এরপর থেকে বংশপরম্পরায় এই আয়োজন চলে আসছে। তারেই ধারাবাহিকতায় তাঁরা নিয়মিতভাবে বউমেলার আয়োজন করছেন। তিনি আরও বলেন, মেলা চলাকালে পুরুষদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও সন্ধ্যা সাতটার পর মেলা শেষ হলে পুরুষেরা প্রবেশ করতে পারেন। মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়।

সারিয়াকান্দিতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান, ১০ হাজার মিটার জাল জব্দ
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে মা ইলিশ সংরক্ষণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই অভিযানে ১০ হাজার মিটার অবৈধ ইলিশ জাল বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকারের সরঞ্জাম এবং প্রায় ১৫ কেজি ইলিশ জব্দ করা। পরে নিষিদ্ধ জাল ও শিকারের সরঞ্জাম জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। জব্দকৃত ইলিশ মাছ স্থানীয় তিনটি এতিমখানায় দেওয়া হয়৷ রবিবার (২৫ অক্টোবর) যমুনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। সারা দিনব্যাপী এ অভিযানটি পরিচালনা করেন, রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ। অভিযানকালে যমুনায় অবৈধভাবে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত জাল ও বৈদ্যুতিক শক প্রয়োগের সরঞ্জাম জব্দ করেন কর্মকর্তারা। এসব সরঞ্জাম জব্দ করার পর উপজেলার কালিতলা ঘাটে জনসম্মুখে সব ধ্বংস করা হয়। জব্দ করা প্রায় ১৫ কেজি ইলিশ মাছ স্থানীয় তিনটি এতিমখানায় বিতরন করে দেওয়া হয়। স্হানীয়রা এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মা-ইলিশের প্রজননকাল নির্বিঘ্ন রাখতে নদীতে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করা জরুরি। এ সময়ে নিষিদ্ধ জাল ও বৈদ্যুতিক শক ব্যবহার করে মাছ ধরলে ইলিশের বংশ বিস্তার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীর অন্যান্য জলজ প্রাণীও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শুধু অভিযান একদিন পরিচালনা নয়, নদীতে নিয়মিত নজরদারি এবং নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান সরকার, রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য পরিচালকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক সেলিম আক্তার, বগুড়া জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক শারমিন আক্তার, সারিয়াকান্দি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুর্শিদা খাতুন এবং বগুড়া সদর উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহফুজুল হক। এ ছাড়া সারিয়াকান্দি থানা পুলিশের সদস্য, মৎস্য দপ্তরের কর্মচারী ও স্থানীয় মৎস্যজীবীরা অভিযানে অংশ নেন। যমুনার মৎস্য সম্পদ রক্ষা, ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো এবং প্রজনন মৌসুমে অবৈধ শিকার ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


