বিয়ে হয়েছে সদ্যই। অথচ স্বামী দিনের বেশিরভাগ সময়ই কাটান মায়ের সঙ্গে। কিংবা মা যাই বলেন তাতেই ‘হ্যাঁ’। আর ‘না’-তে ‘না’। শাশুড়িও দিনরাত সন্তানকে আগলে রাখার চেষ্টা করেন। তার ফলে শাশুড়ি-বউমার মধ্যে মন কষাকষি লেগেই থাকে। এমন সমস্যার কথা বহু তরুণীই বলেন। তার ফলে দাম্পত্যে ফাটলও ধরতে দেখা যায়। তবে অশান্তি করবেন না। জেনে নিন কীভাবে জাঁদরেল শাশুড়িকে শান্ত করে সুখে সংসার করবেন।
- স্বামী কার সঙ্গে বেশি সময় কাটাচ্ছেন তা নিয়ে কাটাছেঁড়া করবেন না। তাতে উদ্বেগ আরও বাড়বে। তার ফলে অশান্তি হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।
- শাশুড়ি বউমা দু’জনেই দু’জনের সীমারেখা বোঝার চেষ্টা করুন। কেউ কারও ব্যক্তিগত পরিসরে ঢোকার চেষ্টা করবেন না। তাতে পারিবারিক শান্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
- সম্পর্ক ভালো রাখার দায়িত্ব সকলের। অযথা আপনি একা সমস্ত দায়িত্ব নেবেন না। তাতে একসময় সম্পর্ক আপনার কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। প্রয়োজনে পরিবারের সকলের সঙ্গে বসে কথা বলুন। তাতে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম।
- শাশুড়ির কোনও আচরণে খারাপ লাগলে সরাসরি কথা বলুন। নিজে বলতে না পারলে স্বামীর সঙ্গে কথা বলুন। স্বামীর পক্ষে তাঁর মাকে বোঝানো বেশি সুবিধাজনক। তার ফলে সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা কমবে।
- অনেকেই সংসারে অশান্তির ভয়ে মুখ বুজে সব সহ্য করে নেন। তার ফলে মনে মনে গুমরে থাকেন। মুখ বুজে অন্যায় সহ্য করবেন না। নিজের কথা ভাবুন। মানসিক শান্তির দিকে নজর দিন।
- শাশুড়ির সঙ্গে বন্ধুত্ব করার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে কিছুটা সময় তাঁকে দিন। একসঙ্গে কোথাও বেড়াতে যেতে পারেন। তাঁর পছন্দের কোনও উপহার দিতে পারেন। তাতে সম্পর্ক মিষ্টি মধুর হবে।
- আপনি সন্তান ও মায়ের মধ্যে কোনও বিভেদ তৈরি করতে চান না, তা শাশুড়িকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। ভরসা দিন। তাতেই সাংসারিক অশান্তি থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
একটি মেয়ে নিজের ছোটবেলা, চেনা জানা জায়গা ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে আসেন। আবার সেই বাড়িটিতেও কিছু নিজস্ব রীতি রেওয়াজ রয়েছে। তাই শুরুতেই যে সব মনমতো হবে, তা ভাববেন না। আবার কেউ কেউ তাঁর শাশুড়িকে প্রথম থেকেই মনে মনে প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে ফেলেন। সেই ধারণাও রাখবেন না। মনে রাখবেন, সংসার যে ঠিক কীভাবে সুখের হবে তার কোনও বাঁধাধরা নিয়ম নেই। তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ করুন। নিজেকে ভালো রেখে সকলকে নিয়ে বেঁধে বেঁধে থাকার চেষ্টা করুন, তাতেই সংসার হবে সুখের।
