চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমানের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার এবং জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রথমে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমানসহ থানা পুলিশের একটি দল। পরে মরহুমের কফিনে তারা শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। এরপর একই স্থানে জানাজায় ইমামতি করেন স্থানীয় চান্দ্রা দরবার শরীফের পীর মাওলানা হুজ্জাতুল্লাহ। এর পূর্বে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন সাবেক মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রহিম বাদশা, ফরিদগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন সাবু পাটওয়ারী। এর আগে তিনি গত ২৪ অক্টোবর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত মৌলভী আব্দুল হামিদ ও আয়েশা খাতুন দম্পতির ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। পরিবার থেকে জানানো হয় গত ২৩ অক্টোবর রাতে বনানীর নিজ বাসভবনে তিনি স্ট্রোক করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জীবদ্দশায় শফিকুর রহমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৫ সালে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস ও ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। পরে তিনি যুক্তরাজ্য ও জাপানে সাংবাদিকতার ওপর উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি পরপর দুইবার (২০১৫-২০১৮) সেশনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া তিনি চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য ছিলেন।