আসন্ন কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটেই কি জোট বাঁধবে কংগ্রেস ও মমতা তৃণমূল? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে। সেই আবহেই সোমবার বিরোধীদের তরফে পুরভোট সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। যে চিঠিতে একযোগে স্বাক্ষর করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং দমদমের মমতাপন্থী তৃণমূলের সাংসদ সৌগত রায়। চিঠিতে স্বাক্ষর রয়েছে তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকারেরও। এই বিষয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকদল বিজেপিকে দুর্নীতিপরায়ণ আখ্যা দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটযুদ্ধে মমতা তৃণমূলের সঙ্গে জোটের বিষয়টি ভেবে দেখবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন।
বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর (এসআইআর) পর ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শেষ না-হওয়া পর্যন্ত কলকাতা ও হাওড়া-সহ রাজ্যের কোনও পুরসভা নির্বাচন না-করার আর্জি জানিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক অধিকার সংগঠন। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্তকে চিঠি দিয়ে এই দাবি জানানো হয়েছে। চিঠিতে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এসআইআর সংক্রান্ত আপিলের নিষ্পত্তি না-হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারীদের নামও পুরভোটের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বিরোধীদের বক্তব্য, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের এসআইআরের জেরে পশ্চিমবঙ্গে বহু যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত করার জন্য ১ অক্টোবর থেকে বিশেষ উদ্যোগ শুরু করেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। পাশাপাশি, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারিকে যোগ্যতা নির্ধারণের তারিখ ধরে বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধনের (এসএসআর) বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের নির্ধারিত দিন ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি। বিরোধীদের দাবি, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই কলকাতা পুরনিগম, হাওড়া পুরনিগম এবং রাজ্যের অন্যান্য পুরসভা ও পুরনিগমের নির্বাচন করা হোক। তাতে এসআইআরে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকায় তোলার সুযোগ থাকবে।
শুধু পুনর্নথিভুক্তির প্রক্রিয়া শেষ করার দাবি নয়, এসআইআর সংক্রান্ত আপিল ট্রাইব্যুনালে যাঁদের আবেদন এখনও বিচারাধীন, তাঁদেরও পুরভোটের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আর্জি জানানো হয়েছে। চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের ১৬ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কলকাতা পুরনিগম এলাকার প্রায় ১.২ লক্ষ এবং হাওড়া পুরনিগম এলাকার প্রায় ৩৯ হাজার আবেদনকারীর আপিল বিচারাধীন রয়েছে। অর্থাৎ, দুই পুর এলাকা মিলিয়ে প্রায় ১.৬ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলির মধ্যে কলকাতা জেলায় ১০০ শতাংশ এবং হাওড়ায় ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই আবেদনকারীদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির পক্ষে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই কারণে, বিচারাধীন আবেদনকারীদের পুরভোটের তালিকার বাইরে রাখলে বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁদের দ্বিতীয় বার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিঠির স্বাক্ষরকারীরা।
সংবিধানের ২৪৩-জেডএ অনুচ্ছেদ এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিশন আইন, ১৯৯৪-এর পাঁচ নম্বর ধারার উল্লেখ করে বিরোধীদের বক্তব্য, পুর নির্বাচনের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ক্ষমতা রয়েছে। সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারী সকলের নাম অন্তর্ভুক্ত করার আর্জি জানানো হয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং অন্যান্য বিরোধী ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, এসএসআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারির পরে বা নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত বর্ধিত সময়সীমা অনুযায়ী পুরভোট করা হোক। ইতিমধ্যে ৩০ অক্টোবর দিল্লিতে ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ জোট। আর তার দু’দিন পর ১ নভেম্বর বড় সমাবেশ কংগ্রেসের। মমতা-অভিষেক দিল্লিতে সেই সমাবেশে যোগ দেবেন। কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দিল্লিতে মমতার এক মঞ্চে শামিল হওয়ার ঘটনাও পুরভোটের কংগ্রেস-মমতা তৃণমূলের জোট গড়তে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
