সোনার গয়না মানেই আভিজাত্য, সৌন্দর্য আর আবেগের মেলবন্ধন। যুগের পর যুগ হলুদ সোনার গয়না মানুষের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকলেও বর্তমানে ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সাদা সোনা। বিশেষ করে বিয়ের আংটি, হীরার অলঙ্কার ও আধুনিক নকশার গয়নায় এর ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু সাদা সোনা আসলে কী?
সাদা সোনা তৈরির রহস্য:
সাদা সোনা কোনো স্বতন্ত্র প্রাকৃতিক ধাতু নয়। খাঁটি হলুদ সোনার সঙ্গে নিকেল, প্যালাডিয়াম বা রুপার মতো সাদা রঙের ধাতু মিশিয়ে তৈরি করা হয় এই সংকর ধাতু। এর ফলে সোনার স্বাভাবিক হলুদ আভা কমে আসে এবং গয়নায় তৈরি হয় সাদাটে রং। আরও উজ্জ্বল ও চকচকে করতে এর ওপর সাধারণত রোডিয়ামের পাতলা প্রলেপ দেওয়া হয়।
হলুদ সোনার সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?
দেখতে আলাদা হলেও সাদা ও হলুদ সোনার বিশুদ্ধতা নির্ধারণের নিয়ম একই। ১৮ ক্যারেট সাদা সোনা এবং ১৮ ক্যারেট হলুদ সোনা, উভয় ক্ষেত্রেই মোট ধাতুর ৭৫ শতাংশ খাঁটি সোনা থাকে। বাকি অংশে থাকে অন্যান্য ধাতু। তবে ব্যবহৃত ধাতুর ধরন ও অনুপাতের কারণে রং এবং কিছু বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য দেখা যায়।
দাম কি বেশি?
সাদা সোনার দাম সব সময় হলুদ সোনার চেয়ে বেশি হয় না। এর দাম নির্ভর করে সোনার পরিমাণ, ব্যবহৃত সংকর ধাতু, গয়নার নকশা ও তৈরির মজুরির ওপর। প্যালাডিয়ামের মতো মূল্যবান ধাতু ব্যবহার করলে খরচ বাড়তে পারে। পাশাপাশি রোডিয়ামের প্রলেপ দেওয়ার খরচও দামে প্রভাব ফেলে।
যত্ন নেবেন যেভাবে:
সাদা সোনার গয়নায় থাকা রোডিয়ামের প্রলেপ সময়ের সঙ্গে ক্ষয়ে যেতে পারে। তাই গয়নার উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় প্রলেপ দিতে হয়। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং রাসায়নিক পদার্থ থেকে দূরে রাখাও জরুরি।
আধুনিক নকশা ও রুপালি আভাই সাদা সোনাকে করেছে আলাদা। ঐতিহ্যবাহী সোনার বিকল্প নয়, বরং গয়নার জগতে এটি নিজস্ব রুচির এক স্বতন্ত্র প্রকাশ।
