লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর লরেন্স ইউনিয়নে বাড়িতে প্রসব করাতে গিয়ে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কমিউনিটি ক্লিনিকের সহকারী বিলকিস বেগমের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গতকাল রাত ১০টার দিকে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে প্রসবের জন্য বিলকিস বেগমের কাছে যান ওই নারী। এ সময় তিনি আল্ট্রাসনোগ্রাম করিয়ে আনার পরামর্শ দেন। পরে করইতলা বাজারের একটি হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হলে প্রতিবেদনে শিশুটি সুস্থ রয়েছে এবং স্বাভাবিক প্রসবের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মুঠোফোনে বিষয়টি জানানোর পর বিলকিস বেগম ওই নারীকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে আসতে বলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁকে সেখানে নেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, আল্ট্রাসনোগ্রামের প্রতিবেদন দেখে শিশুটি সুস্থ আছে বলে আশ্বস্ত করার পর প্রসূতিকে ব্যথার ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপর তাঁকে সামনের বারান্দায় রেখে বিলকিস বেগম নিজের কক্ষে চলে যান। পরে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর এসে আরও দুটি ইনজেকশন দেন বলে পরিবারের দাবি। ইনজেকশন দেওয়ার পর প্রসূতি বমি করেন। পরে তাঁকে স্যালাইন দিয়ে আবার চলে যান অভিযুক্ত।
পরিবারের অভিযোগ, ভোর ৪টার দিকে প্রসববেদনা তীব্র হলে এবং শিশুর মাথা জরায়ুর মুখে চলে এলে প্রসূতির চিৎকার শুনে বিলকিস বেগম ছুটে আসেন। পরে শিশুটির জন্ম হলেও নবজাতককে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নবজাতকের মা অভিযোগ করে বলেন, “ডেলিভারি হওয়ার দুই-তিন মিনিট আগেও আমার বাচ্চা পেটে অনেক নড়াচড়া করেছে। সারারাত বাচ্চা সুস্থ ছিল, নড়াচড়া করেছে। কিন্তু উনি যখন বাচ্চা বের করেন, তখন বাচ্চার ফুল-নাড়ি ছিঁড়ে বের করেন। পরে বাচ্চা আমার বুকে দিয়ে বলেন, বাচ্চা মারা গেছে। ১৫ বছর পর আল্লাহ আমাকে একটি ফুটফুটে মেয়ে সন্তান দিয়েছেন। আমার বাচ্চাটা মারা গেছে।” নবজাতকের বাবা বলেন, “আমি ১৫ বছর পর একটি সন্তানের মুখ দেখেছি। আমার সুস্থ সন্তান তাঁর অবহেলা ও অনিয়মের কারণে মারা গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিলকিস বেগম নিজ বাড়িতে প্রসব করানোর ব্যবস্থা করে রেখেছেন। কয়েকজন নারীকে ব্যবহার করে প্রসবের রোগী সংগ্রহ করা হয় বলেও অভিযোগ তাঁদের। এভাবে বাড়িতে প্রসব করাতে গিয়ে আরও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ভুক্তভোগী আমাকে লিখিত অভিযোগ দিলে আমি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। আমি যতটুকু জানি, তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে বাড়িতে ডেলিভারি না করার জন্য বলা হয়েছে। তাঁর সিজার বা ডেলিভারি করার কোনো এখতিয়ার নেই। তিনি কেন করছেন, তা আমরা খতিয়ে দেখব।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিলকিস বেগমের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে সংবাদকর্মীরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
The post কমলনগরে বাড়িতে প্রসব করাতে গিয়ে নবজাতকের মৃত্যু, অভিযোগ appeared first on ভোরের চেতনা.
