আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১৫০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের জ্বালানি কমিশনের প্রধান হোজ্জাতুল ইসলাম মুসা আহমাদি জানিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধের সূত্রপাত হলে কিংবা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হলে জ্বালানির বাজারে এই নজিরবিহীন উল্লম্ফন ঘটবে। রবিবার ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
আহমাদি উল্লেখ করেন, বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার অতিক্রম করেছে এবং একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কৌশলগত মজুতও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট প্রলম্বিত হলে ওয়াশিংটন ছাড়াও তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো মারাত্মক অর্থনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটে নিপতিত হবে।
তেলের মূল্যবৃদ্ধির বহুমাত্রিক প্রভাবের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, জ্বালানির মূল্যস্ফীতি কেবল নির্দিষ্ট খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পরিবহন ও শিল্পোৎপাদনসহ সার্বিক ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি করবে। এর ফলে আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপ তীব্র আকার ধারণ করবে। নিজ দেশের ভোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে মার্কিন সরকারকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশগুলোর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও নড়বড়ে করে তুলতে পারে।
জ্বালানির বাজারে দীর্ঘস্থায়ী চাপ বজায় রাখার বিষয়ে ইরানের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে সংসদীয় এই নেতা দাবি করেন, ভৌগোলিক কৌশলগত সুবিধা এবং নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতার কারণেই তেহরান এই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম। এ ছাড়া ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল ও আলবেনিয়াসহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করে দেন যে তেল সরবরাহে সামান্যতম বিঘ্ন ঘটলেও তা যুক্তরাষ্ট্র ও গোটা ইউরোপীয় অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভিত্তিকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেবে।
