অভিনেত্রীর বয়স ৫৯ বছর। চিকিৎসক স্বামীর বয়স ৬০ বছর। কিন্তু তারকাদম্পতিকে দেখলে বোঝা দায় তাঁদের বয়স। কী ভাবে এমন ফিটনেস ধরে রেখেছেন মাধুরী দীক্ষিত এবং শ্রীরাম মাধব নেনে? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শ্রীরাম জানালেন, তিনি এবং মাধুরী ৬টি পন্থা মেনে চলেন। আর সেগুলিই তাঁদের সুস্থ এবং ফিট রাখতে সাহায্য করে।
১. সুস্থ খাদ্যাভ্যাস: সুস্থ থাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত সুষম আহার। তবে স্বাস্থ্যকর খাওয়ার অর্থ একেবারে কঠোর খাদ্যনিয়ম মেনে চলা বা পছন্দের সব খাবার বাদ দেওয়া নয়। নেনের মতে, কী খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন এবং খাবারের পরিকল্পনা কী ভাবে করছেন, সে দিকে নজর দেওয়া জরুরি। মাধুরীর স্বামীর মতে, অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে এক বারেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকে। তাই অতিরিক্ত খিদে পাওয়ার আগেই খাবারের ব্যবস্থা করা দরকার। পাতে কী কী থাকছে, তা নিয়েও সচেতন থাকা ভাল। তাঁর পরামর্শ, পাতে শাকপাতা ও ফাইবারযুক্ত সব্জির পাশাপাশি প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবারও রাখা উচিত। কোনও একটি পুষ্টিকর উপাদান পুরোপুরি বাদ দেওয়া স্বাস্থ্যকর নয়।
২. খাওয়ার পর হাঁটা: সারাদিন বসে কাজ করাই এখনকার চেনা ছবি। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হাতের মুঠোয় খাবার পৌঁছে যাওয়ার সুবিধা। ফলে দৈনন্দিনের যে স্বাভাবিক চলাফেরা, তা কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে খাওয়ার পর অল্প হাঁটাহাঁটি করলেও শরীর সক্রিয় থাকে। নেনের মতে, খাওয়ার পর হাঁটা পেশিকে সক্রিয় করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে শরীরকে সাহায্য করতে পারে। তাই খাওয়ার পরেই সোফায় বসে থাকা বা শুয়ে পড়ার বদলে নিজের শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী কিছুটা হাঁটতে পারেন। দিনের বাকি সময়েও একটানা বসে না থেকে মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটাচলা করা জরুরি। নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা ও সুষম খাবার বিপাকক্রিয়া ভাল রাখতেও সাহায্য করে।
৫৯ বছর বয়সে কী ভাবে এত ফিট মাধুরী? ছবি: সংগৃহীত
৩. পেশির শক্তিবৃদ্ধি: পেশির ঘনত্ব বা শক্তিবৃদ্ধি মানেই জিম নয়, বাড়িতেও পেশি তৈরির ব্যায়াম করা যেতে পারে। নেনের মতে, যদি জলের বোতল বা তেমন কোনও জিনিস নিয়ে ব্যায়াম করেন, সেটাও কিন্তু পেশির শক্তিবৃদ্ধিতেই কাজে আসছে। নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী শরীরের ওজন ব্যবহার করে ব্যায়াম, হালকা ওজন তোলা বা রেজ়িস্ট্যান্স ব্যান্ড ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪. পর্যাপ্ত ঘুমোনো: খাবার ও শারীরচর্চার পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য বজায় রাখায় ঘুমেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ঘুমের সময়ে শরীর বিশ্রাম নেয়, কোষ মেরামত করে এবং স্মৃতি সংরক্ষণের মতো প্রয়োজনীয় কাজগুলি করে। তাই প্রতিদিন ঘুমের সময় বদলে ফেলা বা রাত জেগে থাকার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে। শ্রীরাম জানাচ্ছেন, শরীর নির্দিষ্ট অভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ভালবাসে। তাই প্রতিদিন প্রায় এক সময়ে ঘুমোতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করা উচিত। শোয়ার আগে ফোন-সহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি সরিয়ে রাখা, ঘরের আলো মৃদু করে নেওয়া, ঘর ঠান্ডা রাখা এবং বিছানার চাদর পরিষ্কার রাখার মতো বিষয়ও ভাল ঘুমের জন্য দরকারি।
৫. ট্রেন্ডে পা না মেলানো: সমাজমাধ্যমে প্রতিদিনই স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত নতুন নতুন পরামর্শ প্রকাশ্যে আসে। কোনওটি দ্রুত ওজন কমানোর দাবি করে, কোনওটি আবার নির্দিষ্ট খাবার বাদ দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু জনপ্রিয় হলেই কোনও অভ্যাস শরীরের পক্ষে ভাল, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নেনের পরামর্শ, নতুন কোনও ট্রেন্ড অনুসরণ করার আগে তার পিছনে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে কি না, তা দেখা দরকার। শরীরের উপর একের পর এক নতুন পদ্ধতি পরীক্ষা করার বদলে সুষম খাবার খাওয়া, সক্রিয় থাকা, পেশির শক্তি বজায় রাখা ও পর্যাপ্ত ঘুমের মতো অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি কার্যকর।
৬. পরিমাণ বুঝে খাওয়া: স্বাস্থ্যকর খাওয়ার অর্থ সব প্রিয় খাবার বাদ দিয়ে দেওয়া নয়। বরং পরিচিত খাবার কী ভাবে তৈরি করা হচ্ছে এবং কতটা খাওয়া হচ্ছে, তার উপরেও নজর দেওয়া যায়। নেনে সাক্ষাৎকারে বড়া পাওয়ের মতো পরিচিত খাবারের বিকল্প প্রস্তুতির কথা বলেছেন। আলুর বদলে রাঙাআলু দিয়ে তৈরি বড়া পাও বা ভেজে নেওয়ার বদলে অন্য পদ্ধতিতে রান্না করার উদাহরণ দিয়েছেন মাধুরীর স্বামী।
