আজকাল ওয়েবডেস্ক:মোহনবাগান নতুন জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল। জার্সিতে অভিনবত্ব ছিল, ছিল নতুনত্বের ছোঁয়া। অথচ মাঠের খেলায় কোথায় সেই নতুনত্ব? কোথায় সেই ঝলমলে ফুটবল? চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে হোম ম্যাচে গোলের জন্য ৮৫ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো সবুজ-মেরুনকে। পরিবর্ত হিসেবে নেমে লিস্টন কোলাসোর ভাসানো ক্রস থেকে গোল করে গেলেন মানবীর সিং। আর সেই এক গোলেই ঘরের মাঠে জয় তুলে নিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন মোহনবাগান কোচ প্যানাজিওটিস।
অন্যদিকে, চেন্নাইয়িনের জার্সি সেই চিরাচরিত সাদা। কিন্তু জার্সির রং সাদামাটা হলেও মাঠে তাদের ফুটবল ছিল বেশ ঝলমলে। একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করল তারা। গোল করার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হলো একাধিকবার। কিন্তু সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে পারল না চেন্নাইয়িন। আর এই একের পর এক গোলের সুযোগ নষ্ট করার জন্য আক্ষেপ করতে হল চেন্নাইয়িন কোচ ক্লিফোর্ড মিরান্ডাকে।
একসময় ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে কথাবার্তা চলেছিল নিকোলার সঙ্গে। সেই নিকোলাই এ দিন মাঝমাঠে ফুল ফোটালেন। তাঁর পায়ে তৈরি হলো আক্রমণের বীজ। ইস্টবেঙ্গলে খেলে যাওয়া মাদিহ তালালও একাধিকবার গোলের গন্ধমাখা বল বাড়িয়ে দিলেন সতীর্থদের উদ্দেশে। কিন্তু কোথায় গোল? সুযোগ এল, সম্ভাবনা তৈরি হলো, অথচ শেষ হাসি হাসতে পারল না চেন্নাইয়িন। উল্টোদিকে, তাদের আটকে দিলেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। একাধিক ক্ষেত্রে তাঁর দৃঢ় উপস্থিতিই সবুজ-মেরুনকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখল।
তবে মোহনবাগান কোচ প্যানাজিওটিসের সমস্যাও কম ছিল না। মিগুয়েল হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে বাইরে। ম্যাকলারেনও পুরোপুরি সুস্থ নন। আপুইয়া হাসপাতালে। ফলে গোল করার মতো নির্ভরযোগ্য বিকল্প খুঁজে পাওয়াটা সহজ ছিল না। তা সত্ত্বেও মোহনবাগান কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু সেই সুযোগগুলিও কাজে লাগানো গেল না। আক্রমণে সেই ধার, সেই ক্ষুরধার ফিনিশিংয়ের অভাব বারবার চোখে পড়ল। প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন শুরু থেকে নামালেন না সাহালকে? কেন প্রথম একাদশে রাখা হল না অনিরুদ্ধ থাপাকে? কিন্তু যখন গোল আসছে না, যখন ম্যাচ ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে, তখনই ভরসা করতে হলো পরিবর্তদের উপর।
খেলার বয়স তখন ৮২ মিনিট। তখন হাতের শেষ তাস ফেললেন প্যানাজিওটিস। আর তার মাত্র তিন মিনিট পরেই বাজিমাত! বাঁ প্রান্ত থেকে লিস্টনের ভাসানো ক্রস, আর সেখান থেকেই মনবীর সিংয়ের গোল। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। গ্যালারিতে স্বস্তি, ডাগআউটে উচ্ছ্বাস। গোলের পর হাত ছুড়ে নিজের আবেগ প্রকাশ করলেন প্যানাজিওটিস।
ম্যাচের ছবিটা তাই বেশ অদ্ভুত। চেন্নাইয়িন সুযোগ তৈরি করল বেশি, আক্রমণে উজ্জ্বলতাও দেখাল। কিন্তু গোল করতে পারল না। মোহনবাগানও খুব একটা আহামরি ফুটবল উপহার দিতে পারল না। গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হলো ম্যাচের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত। অথচ শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট গেল সবুজ-মেরুনের ঝুলিতেই।
জার্সিতে নতুনত্ব ছিল, খেলায় সেই ঝলক ছিল না। কিন্তু ফুটবলের শেষ কথা গোল। আর সেই গোলটাই করে গেল মোহনবাগান। চেন্নাইয়িনের আক্ষেপ, মোহনবাগানের স্বস্তি আর ৮৫ মিনিটে লিস্টন-মানবীরের যুগলবন্দিতে ঘরের মাঠে জয় তুলে নিল সবুজ-মেরুন।
