মনপুরা প্রতিনিধি ॥
ভোলার মনপুরায় ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মেঘনায় অবাধে মা ইলিশ শিকার করছে অসাধু জেলেরা। সেই সাথে রাতের আঁধারে সাগরে দুই শতাধিকের ওপরে ফিশিং বোট (ট্রলার) মা ইলিশ শিকার করতে বঙ্গোপসাগরে চলে গত কয়েকদিন আগে।
প্রশাসন ম্যানেজ করে প্রতিটি ফিশিং বোট থেকে ২০-৩০ হাজার টাকায় রফাদফা করে উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে অঘোষিত অনুমোদন নিয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়েছে দুই শতাধিকের ওপর মাছ ধরার ট্রলার এমন অভিযোগ জেলে ও ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের।
তারা আরও জানান, গত কয়েকদিন বিভিন্ন ঘাট থেকে ট্রলারগুলো বরফ বোঝাই করে রাতের আঁধারে সাগরে মাছ শিকারে চলে যায়। ওই সমস্ত ট্রলারগুলে নিষেধাজ্ঞার শেষ দিন মা ইলিশ বোঝাই করে ফের চলে আসবে।
জানা যায়, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের জনতা বাজার মৎস্য ঘাট, মাঝেরঘাট ও আনন্দ বাজার, তালতলা, সূর্যমুখী, উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের লতাখালি, খাড়ির খাল, কলাতলী ইউনিয়নের কলাতলী মৎস্য ঘাট ও ঢালচর ঘাট থেকে দুই শাতাধিকের ওপর ফিশিং ট্রলার মাছ ধরতে সাগরে চলে গেছে। দিনের বেলায় ট্রলারে জাল বোঝাই করে। সন্ধ্যা হলেই বরফ ও ডিজেল নিয়ে সমুদ্রে পথে চলে যায় ট্রলারগুলো।
ওই সমস্ত ট্রলারের মালিক ও জেলেরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রশাসনের নির্ধারণ করা জেলেদের মাধ্যমে ২০-৩০ হাজার টাকা দিয়ে তারা সাগরে মাছ মাছ ধরার অনুমতি নিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছে।
এদিকে উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি আকতার সিকদার অভিযোগ করে জানান, প্রশাসনকে এক প্রকার ম্যানেজ করে ছোট-বড় অনেক নৌকা নিয়মিত মেঘনা নদীতে নেমে মাছ শিকার চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ওই সমস্ত মাছ প্রকাশ্যে দিবালোকে বিক্রি করা হয়।
উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল্লাহ সেলিম অভিযোগ করে জানান, উপজেলা মৎস্য অফিস তাদের সাথে পরামর্শ না করে অভিযান পরিচালনা না করায় জেলেরা অবাধে মাছ শিকার করছেন। উপজেলা প্রশাসন ইচ্ছে করে তাদের সাথে যোগাযোগ করছেনা, এমনকি জেলেদের সাথে গোপনে টাকার বিনিময় রফাদফা করে মাছ ধরার অনুমতি দিয়েছে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান সালমান হাবিব জানান, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ট্রলারে অভিযান চালিয়ে বরফ নষ্ট করা হয়। পাশপাশি জরিমানা করা হয়।
এদিকে প্রতিটি ট্রলারে ২০-৩০ হাজার টাকায় রফাদফার বিনিময় মাছ শিকারের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা জানান, মৎস্য অফিসের কেউ টাকার লেনদেনের সাথে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি লজিস্টিক সাপোর্ট ও লোকবল সংকটের কারণে অভিযান সঠিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছেনা স্বীকার করেন।