স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, ফিলোসপিক্যাল প্রশ্নগুলো যদি বোঝার চেষ্টা করি, তাহলে আমরা গবেষণা করার উদ্দেশ্য খুঁজে পাবো। গবেষণা আমাদেরকে শুধুমাত্র পরীক্ষায় পাস করা বা প্রমোশন দেয়না। গবেষণা করতে করতে আপনি এমন কিছু খুঁজে পাবেন যা আপনার জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রফেসর এস জি এম চৌধুরী মিলনায়তনে ডিপার্টমেন্ট অব মেডিসিন ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ‘দ্যা রিসার্চ জার্নি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণার সবচেয়ে বড় ইমপ্যাক্ট হচ্ছে যখন সেই গবেষণা কোন দেশের বা ইন্টারন্যাশনালি কোন সাবজেক্ট-এর পলিসিতে চেইঞ্জ নিয়ে আসে। পলিসিতে একটি বাক্য বদলে যায়। সেই বাক্যের কারণে বাজেট বদলে যায়। সেই কারণে লাখ লাখ মানুষ নতুন ট্রিটমেন্ট পায়, যা সে আগে পেতনা। রিসার্চ এর কারণে নতুন নতুন প্রোগ্রাম ডেভলেপ হয়।
তিনি আরও বলেন, এমন প্রতিকূল পরিবেশে দিনে ৫০/১০০টা রোগী দেখলে আপনার এনার্জি, মাইন্ডসেট কোন কিছুই ভালো রিসার্চ-এর জন্য আপনাকে অ্যালাউ করবেনা। আপনি ভালো আউটপুট দিতে পারবেন না। বিদেশের ডাক্তারেরা একটি ওটি তে দু’টি অপারেশন করে৷ তাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকে রোগীকে অবজার্ব করার। কিন্তু আপনাকে করতে হয় ৮টা সার্জারি, আপনি ব্যস্ত থাকেন বেস্ট সার্জারি টা করতে, রোগীকে বেস্ট সেবাটি দিতে। গবেষণায় যে পরিমাণ সময় দরকার, যে পরিবেশ দরকার আমাদের দেশের ইন্সটিটিউটগুলোতে চিকিৎসকদের সে সময়টা আমরা দিতে পারিনা বলেই তারা গবেষণা করে না।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের দেশের কোনো চিকিৎসক যখন বিদেশে যায়, দেখবেন তারা আগের চেয়ে বেশি পাবলিকেশন করছে। কারণ উনাকে ওখানে ডেডিকেটেড সময় দেওয়া হয় গবেষণা করার জন্যে।
গবেষণা কোনো বাই প্রডাক্ট না। গবেষণা রোগী দেখার মত আরেকটি কাজ। দ্বিতীয়ত, আমরা ভাবি অনেক সংখ্যা থাকলে রিসার্চ ভালো হয়। এটি ভুল ধারণা।
তিনি বলে, একটি রিসার্চ শুধুমাত্র তার পাবলিকেশনে শেষ হয়ে যায়না। অনেকক্ষেত্রে রিসার্চ এর ইম্প্যাক্ট শুরু হয় পাবলিকেশন এর দিন থেকে। পাবলিকেশন ইম্প্যাক্টফুল জার্নির দিকে নিয়ে যায় আমাদেরকে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন, ঢাকা মেডিকেল এর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার এ কে এম ফরহাদ ও ঢাকা মেডিকেল এর ডাক্তার ও গবেষণা শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
