আওয়ামী লীগের পথে হাঁটলে একই পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী-দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি ফ্যাসিস্টদের একটি ক্লাব। বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতায় গিয়ে দলটি হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে। গতকাল বিকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, (আইডিইবি) মাল্টিপারপাস হলরুমে ‘২৮শে অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীর এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ চেয়েছিল চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকতে। সে সময়ের সংবিধানে শেখ মুজিবুর রহমান যতদিন জীবিত থাকবেন, ততদিন তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট থাকবেন- এমন বিধান রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, স্লোগান ছিল ‘এক নেতার এক দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’।
জামায়াত আমীর বলেন, পাকিস্তানি শাসকদের অধীনে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নেয়ায় মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। এতে লাখো মানুষের জীবন গেছে, অসংখ্য মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং বহু মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ এসব ঘটনা থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি।
শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস, লুটপাট ও নানা অপকর্ম চালিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৩৫ হাজার বা ৩৭ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের কাউকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি কিংবা আদালতে তোলা হয়নি। রক্ষীবাহিনী দিয়ে তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের অপকর্মের বোঝা এত ভারী হয়ে গিয়েছিল যে, দলটি বুঝতে পেরেছিল ভবিষ্যতে জনগণ তাদের গ্রহণ করবে না। এ কারণে তারা দু’টি বড় পদক্ষেপ নেয়- সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা এবং নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য রক্ষীবাহিনী গঠন। এ দু’টি পদক্ষেপই ছিল জাতির বিরুদ্ধে অবস্থান যুদ্ধের শামিল।
নিঃস্বার্থ ক্ষমা চেয়ে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রক্তের নেশা তারও মগজ থেকে যায়নি। চট্টগ্রামের একটি ঘটনার পর তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই শেখ হাসিনা সেখানে গিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, তার দলের একজনকে হত্যা করা হলে এর বদলে ১০টি লাশ ফেলতে হবে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দেয়া এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি সহিংসতায় উস্কানি হিসেবে অভিহিত করেন।
২০০১ থেকে ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর পর্যন্ত চারদলীয় জোট সরকার জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে দেশ পরিচালনা করেছে বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। তবে ওই সরকারের শেষ দিনে একই ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াত আমীর বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল ২৮শে অক্টোবরের এক সপ্তাহ আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নেতাকর্মীদের লগি-বৈঠা নিয়ে সেদিন উপস্থিত থাকতে হবে। রাজধানীর পিচঢালা রাস্তায় নৌকা চলে না, তাহলে লগি-বৈঠা কেন- এ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ লগি-বৈঠা ছিল মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করার জন্য। তাদের সঙ্গে সেদিন তাদের দোসর বামপন্থিরাও সেখানে ছিল। আমাদের সহকর্মীদের হত্যা করার পর তাদের লাশের উপর সেদিন নাচানাচি করেছিল।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো স্বাভাবিকভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে পারেনি। সবসময় অপমানিত, লাঞ্ছিত ও ধিকৃত হয়ে বিদায় নিয়েছে। সেই রাস্তা যদি কেউ এখন অবলম্বন করতে চান তাদের পরিণতিও ভিন্ন হবে না। একই পরিণতি হবে। আমরা এইসব নিকৃষ্ট খুনিদের বিচার চাই, ন্যায়বিচার চাই।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ আমাদের সকলের। কোনো ফ্যাসিবাদের কাছে এই দেশ ইজারা দেবো না। আমাদের দেশকে আমরা দেখেশুনে পাহারা দিয়ে রাখবো।
