আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে চলা আন্দোলনের সময় ক্যাম্পাসে অনধিকার প্রবেশ এবং অস্থিরতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ ইমরান মাসুদ, রাজ্যসভা সাংসদ ইমরান প্রতাপগঢ়ি ও অন্যদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া কর্তৃপক্ষ।
এই অভিযোগ বা ৭ নম্বর গেটের বাইরে বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে আটক করার দাবির বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এসএফআই) অভিযোগ করেছে যে, বিপুল পুলিশ ৭ নম্বর গেটের বাইরে শিক্ষার্থীদের আটক করেছে।
শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ‘জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’ (জেএমআইএসইউ) পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছে এবং তাদের মধ্যে চারজন ১৩ দিন ধরে অনশন করছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে এসএফআই এই পরিস্থিতিকে শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন বলে অভিহিত করেছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিনই উপাচার্য মাজহার আসিফ এবং রেজিস্ট্রার মহ মাহতাব আলম রিজভী-সহ দেড় হাজারেরও বেশি শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী আনসারি অডিটোরিয়ামের প্রাঙ্গণ থেকে ৭ নম্বর গেট পর্যন্ত মিছিল করে যান। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার করতে রাজি করানো।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে কর্মীরা বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা সেখান থেকে সরে যেতে অস্বীকার করেন।
এসএফআই-এর জামিয়া শাখা অভিযোগ করেছে যে, প্রক্টর, রেজিস্ট্রার এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টা অনশনরত শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাঁদের তাবু ভেঙে ফেলেন এবং নারী শিক্ষার্থীদের টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেন।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অভিযোগ, কিছু শিক্ষার্থী নিরাপত্তা রক্ষী ও শিক্ষকদের ধাক্কা দিয়েছেন।একজন শিক্ষার্থীর মতে, ক্যাম্পাসের বাইরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, এমনকি অনেককে আটকও করা হচ্ছে।
অনলাইন ক্লাসের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে না আসার পরামর্শ দিয়েছে এবং জানিয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট ও লাইব্রেরি বন্ধ থাকবে। জেএমআইএসইউ পুনরুদ্ধারের দাবিতে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এই প্রতিবাদ শুরু হয়। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের পর থেকে এই ছাত্র সংসদের কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
এসএফআই-এর তথ্য অনুযায়ী, অনশনরত চারজন শিক্ষার্থীর পাশাপাশি পিএইচডি গবেষক সানামও প্রতিবাদস্বরূপ গুলিস্থান-এ-গালিব লনে অবস্থান করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধ্যাপকদের নিয়ে গঠিত সাত সদস্যের একটি কমিটি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চার দফা আলোচনা করেছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, গত ২১ অক্টোবর তারা ‘জেএমআইএসইউ সংবিধান খসড়া কমিটি’ গঠনের কথা ঘোষণা করেছে এবং ১২ অক্টোবরের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া বা শুরু হওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগুলো পুনর্বিবেচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এসএফআই-এর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সংবিধান খসড়া কমিটিতে শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা, বর্তমান সেমিস্টারের মধ্যেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে তারা প্রধান প্রক্টর ও নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদত্যাগও দাবি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, ১৮ নম্বর গেটটি প্রতিবাদের জন্য নির্ধারিত স্থান, সুতরাং গুলিস্থান-এ-গালিব লনে এই আন্দোলন ছিল একটি অননুমোদিত দখলদারিত্ব।
