TMCছবি: Istock
Authored By:
Published on
:
3 min read
এই সময়, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: প্রতীক–যুদ্ধ চলছে নির্বাচন কমিশনের দুয়ারে। আদালতের ময়দানেও এ নিয়ে সংঘাত চলছে ‘মমতা তৃণমূল’ এবং ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূলে’র। এ নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূলে’র নতুন অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি। তাঁরাই যে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ (এআইটিসি) এবং জোড়াফুল প্রতীকের ‘প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব’ করছেন— এই সংক্রান্ত হলফনামা ও নথি বোঝাই ট্রাক নাকি হাইজ্যাকের চেষ্টা হয়েছে এবং তার পিছনে রয়েছে কালীঘাটপন্থী ‘মমতা তৃণমূল’— এমনই অভিযোগ তুলেছেন ঋতব্রত। সোমবার ভোর ৪টে নাগাদ এক্স হ্যান্ডলে তাঁর এই পোস্ট প্রতীক–যুদ্ধে নয়া মাত্রা যোগ করেছে। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে কালীঘাট শিবির।
প্রতীক বিতর্কে আবার এ দিনই সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় হলফনামা পেশ করার জন্য আরও ১০ দিন অতিরিক্ত সময় পেয়েছে ঋতব্রত শিবির৷ সোমবার সিজেআই সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়েছে, ঋতব্রত গোষ্ঠী হলফনামা জমা দেওয়ার পরে ১০ দিনের মধ্যে পাল্টা হলফনামা জমা দিতে পারবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের জেরে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে আগামী ৩০ অক্টোবর দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর হাজিরা নিয়েও৷ কমিশনের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, দুই গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সে দিন দিল্লিতে কমিশনে হাজিরা দিয়ে তাঁদের সর্বশেষ অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন৷ আইনজীবীদের একাংশের অভিমত, শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের পরে পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে কমিশনের পূর্ব নির্ধারিত শুনানির তারিখ৷
এ দিন শীর্ষ আদালতে ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবীর দাবি, দুর্গাপুজোর কারণে ১০-১২ দিন রাজ্যে স্ট্যাম্প পেপার পাওয়া যায়নি। পাল্টা ‘মমতা তৃণমূলে’র তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বেআইনি ভাবে স্ট্যাম্প পেপার বের করা হয়েছে। এ বিষয় নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে।’ ঋতব্রত গোষ্ঠীকে যদি অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়, তা হলে তাঁদেরও পাল্টা বক্তব্য পেশ করার জন্য সময় দিতে হবে— সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানান কল্যাণ। দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে ঋতব্রত গোষ্ঠীকে নথি ও হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ১০ দিন সময় দেয় আদালত।
এর আগেই এ দিন ভোর ৪টে নাগাদ ঋতব্রত এক্স হ্যান্ডলে অভিযোগ করেন, যে ট্রাকে তাঁদের হলফনামা ও নথি দিল্লি যাচ্ছিল, তা হাইজ্যাকের চেষ্টা হয়। যদিও দুষ্কৃতীদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি। ঋতব্রত লিখেছেন, ‘কালীঘাটের হলফনামা চার্টার্ড ফ্লাইটে করে ২৫ তারিখ দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমাদের নথি নিয়ে কর্মীরা ২৪ তারিখ সকালে দিল্লি রওনা দেন। যে ট্রাকে এই নথি যাচ্ছিল, সেই ট্রাক থেকে নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়। আমাদের কর্মীরা প্রতিরোধ করেছেন। চার্টার্ড সংস্কৃতির সঙ্গে তৃণমূল স্তরের কর্মীদের দৃঢ় প্রত্যয়ের লড়াই চলবে।’ ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূলে’র কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামান এই চেষ্টার নেপথ্যে কালীঘাটের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। বিধানসভার বিরোধী সচেতকের কথায়, ‘কালীঘাটপন্থীরা আমাদের লরিকে ফলো করে এবং হরিয়ানা বর্ডারে হাইজ্যাক করার চেষ্টা করে। আমাদের যে দলীয় কর্মী লরিতে ছিলেন, তাঁদের নামিয়ে লরি হাইজ্যাকের চেষ্টা হয়, যাতে আমরা নথি কমিশনে জমা দিতে না–পারি। পুলিশের সহযোগিতায় আমরা লরিকে দিল্লিতে নিয়ে যেতে পেরেছি।’ যদিও পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, ট্রাক থামিয়ে হলফনামা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা নিয়ে লিখিত কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি।
কালীঘাট শিবিরের তরফে বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘হরিয়ানা হয়ে কেন নথি আসছিল, বুঝতে পারলাম না! উত্তরপ্রদেশ দিয়ে তো আসার কথা। হরিয়ানাতে গেল কেন? ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক নাটক করেন। এ সব গাঁজাখুরি গল্প।’ ‘মমতা তৃণমূল’ নেতৃত্বের দাবি, ঋতব্রতদের নথি বোঝাই ট্রাক যাতে নির্বিঘ্নে দিল্লি যেতে পারে, তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী বরাদ্দ করা হয়েছিল। যদিও এই দাবি খারিজ করে দিয়েছে ঋতব্রত শিবির। ‘মমতা তৃণমূলে’র মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ‘পুলিশ–প্রশাসনের মদত নিয়ে এই সব নথি ওঁরা তৈরি করেছেন। ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার জন্য যত জন বিধায়কের সই সংগ্রহ করা হয়েছিল, এ বার তার কত জনের সই পেয়েছে? ওরা ট্রাক ছিনতাইয়ের নাটক করে বেড়াচ্ছে।’ এই বাগযুদ্ধ শুনে খোঁচা দিয়েছে পদ্ম শিবির। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘একটা যাত্রা ছিল আগে, ‘মা কুমারী মেয়ে চলল শ্বশুরবাড়ি’। এদের অবস্থা এই রকম। এই নিয়ে যত কম কথা বলা যায় ততই ভালো।’
সুপ্রিম কোর্ট গত সেপ্টেম্বরে যে নির্দেশ দিয়েছিল, সেখানে বলা হয়েছিল, তৃণমূলের দুই শিবিরকে দলের ‘প্রকৃত প্রতিনিধিত্বে’র সপক্ষে বিভিন্ন নথি কমিশনে জমা দিতে হবে। সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলার, ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি থেকে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারী, কমিটি সদস্যদের বর্তমান অবস্থানের হলফনামাও দিতে হবে দু’পক্ষকে। এই কারণেই দু’পক্ষ থেকেই বিপুল সংখ্যক নথি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ‘মমতা তৃণমূলে’র নথি চার্টার্ড ফ্লাইটে দিল্লি গিয়েছে কি না, তা খোলসা করতে চাননি নেতারা। কল্যাণের কথায়, ‘কী ভাবে এসেছে জানি না। তবে দিল্লিতে প্রচুর নথি এসেছে।’