এগিয়ে আসছে সাইক্লোন ‘অর্ণব’। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার ২৮ অক্টোবর, দুপুরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই ঘূর্ণিঝড়ের। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, ল্যান্ডফলের সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম রাখা হলো ‘অর্ণব’? জানা গিয়েছে, নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান বেসিনের অধীনে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইয়েমেন দেশ। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান বেসিনের ১৩টি দেশের থেকে ১৩টি করে নাম চাওয়া হয়েছিল। ২০২০ সালে সেখানে মোট ১৬৯টি নাম জমা পড়েছে। পালা করে ১৩টি দেশের মধ্যে এক একটি দেশের দেওয়া নাম ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। এ বার এই ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দেওয়া নাম ‘অর্ণব’ রাখা হয়েছে। ‘অর্ণব’ কথার অর্থ সমুদ্র বা মহাসাগর।
আইএমডি-র মতে, ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ মানুষকে আবহাওয়া গুরুত্ব ও তার প্রভাবের মাত্রার একটি ধারণা দেয়। এ ছাড়াও, ঘূর্ণিঝড়ের নাম সহজ ও আকর্ষণীয় হলে মানুষ সেই ঝড়ের সম্পর্কে সতর্কবার্তা মনে রাখতে সুবিধা হয়।
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস মতোই সোমবার সকালে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, সোমবার মধ্যরাতের মধ্যে আরও শক্তি বাড়াতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। পশ্চিমবঙ্গে উপর সরাসরি ঝড়ের প্রভাব না পড়লেও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার এবং বিকেলের মধ্যে ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটারে পৌঁছতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার।
বুধবার দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বৃষ্টি চলবে। শুক্রবার ও শনিবার কয়েকটি এলাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পূর্বাভাস জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। বুধবার থেকে কয়েকটি এলাকায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃহস্পতিবার দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জানানো হয়েছে। টানা বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ২৬ অক্টোবর থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশা উপকূলে ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর সম্পর্কে জেনে নিন
ল্যান্ডফলের সময় ও গতিবেগ: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। সেই সময় ঝোড়ো হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার।
নামকরণের নেপথ্যে: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার নিয়ম মেনে এই সাইক্লোনের ‘অর্ণব’ নামটি প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ। ‘অর্ণব’ শব্দের অর্থ সমুদ্র বা মহাসাগর।
দক্ষিণবঙ্গে প্রভাব: যদিও পশ্চিমবঙ্গে এই ঝড় সরাসরি আছড়ে পড়ার আশঙ্কা নেই, তবুও এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির সতর্কতা: আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
