জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেনকে হত্যা মামলায় পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার শুরু হলো।
জুলাই গণহত্যা
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেনকে হত্যা মামলায় পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার শুরু হলো। গতকাল সোমবার শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম আসামীদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৫ নভেম্বর দিন ধার্য করে আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মামলার ৩৪ আসামীর মধ্যে শুরু থেকেই ২২ জন পলাতক। কারাগার থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ ৯ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা দুই আসামীও আদালতে হাজিরা দেন। অন্য মামলায় কারাগারে আটক থাকায় মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামানকে এদিন আদালতে হাজির করা হয় নি। শুনানিতে আসামীপক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী, ফারজানা ইয়াসমিন রাখী, আহসান হাবীব, খায়রুল ইসলাম ও তরিকুল ইসলামসহ অন্য আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। মামলার অন্য আসামীদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।
এ ছাড়া আসামীদের তালিকায় রয়েছেন আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি ও নাইমুল হাসান রাসেল।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। ওইদিন তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন। পথে চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট হোসেনের মা রীনা বেগম মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন আমুসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা
চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহেই ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি জানিয়েছেন, আমির হোসেন আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ইতিমধ্যে প্রসিকিউশনে দাখিল করা হয়েছে। সেটি নিয়ে আমরা ফরমাল চার্জ প্রস্তুত করেছি। আমরা আশা করছি এই সপ্তাহের মধ্যে ফরমাল চার্জ দাখিল করব। তাদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা মিটিংয়ে ছিল। জুলাই গণহত্যার সিদ্ধান্তে তারা ছিলেন। এসব অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে আছে।
সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সাবেক নৌ পরিবহনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক পর্যটনমন্ত্রী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাক ডা. দীপু মনি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানিবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
