২৮ অক্টোবরের আলোচনা সভায় জামায়াত আমীর
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা ১৫ বছর ধরে গুম, খুন ও নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের আশকারা দিচ্ছেন কেউ কেউ।
- স্বাধীন দেশে প্রথম ক্রসফায়ার করেছেন শেখ মুজিব: এটিএম আজহার
- ২৮ অক্টোবর পুলিশ রহস্যজনকভাবে নিষ্ক্রিয় ছিল: আবদুল হালিম
- জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করতে বিএনপির একটি অংশ জড়িত ছিল: নুরুল ইসরাম বুলবুল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা ১৫ বছর ধরে গুম, খুন ও নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের আশকারা দিচ্ছেন কেউ কেউ। সাপ নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন না, সেই সাপই ছোবল দিয়ে শেষ করে দেবে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো স্বাভাবিকভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন শেষে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে পারেনি। দলটি সব সময় লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে বিদায় নিয়েছে। কেউ যদি আবার সেই পথ অনুসরণ করতে চান, তাহলে তাদের পরিণতিও ভিন্ন হবে না। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমরা কোনো প্রতিহিংসার বিচার চাই না, ন্যায়বিচার চাই। অন্যায়ভাবে কাউকে ফাঁসি দেওয়া তো দূরের কথা, কারও একটি লোম ধরে টান দেওয়া হোক তাও আমরা চাই না। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই বাংলাদেশ আমাদের সবার। কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির হাতে বাংলাদেশকে ইজারা দেব না। আমরা আমাদের বাংলাদেশকে দেখে-শুনে রাখব, পাহারা দিয়ে রাখব। জামায়াতের নেতাদের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে দলটির প্রধান বলেন, জীবন একটাইÑএ জীবন আল্লাহর জন্য ও মানবতার জন্য উৎসর্গ করতে আমরা প্রস্তুত। তবে কোনো অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করব না। জামায়াত আমির বলেন, ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় আমার দলের নেতাদের পা কাঁপেনি, ঠোঁট কাঁপেনি। কারণ, তারা বিশ্বাস করতেন, তাদের ওপর জুলুম করা হয়েছে এবং তারা শহীদ হয়ে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বিগত সময়ে গুম ও হত্যাকা-ের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমার দলের অনেক সহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাদের কারও কারও কবর এখনো পরিবারের সদস্যরা খুঁজে পাননি। অনেক মা-বাবা এখনো জানেন না, তাদের সন্তান বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন। মারা গিয়ে থাকলে তার কবর কোথায়, সেটিও তারা জানেন না। জামায়াত আমির বলেন, গত ১৫ বছরে এসব ঘটনা ঘটেছে। এরপরও কেউ কেউ সেই শক্তিকে আশকারা দিচ্ছেন।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, রাজনীতি যদি মানুষ হত্যা করার নাম হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারে। কিন্তু রাজনীতি যদি মানুষের কল্যাণে দেশ গড়া, দেশকে এগিয়ে নেওয়া, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য দূর করার নাম হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের সেই যোগ্যতা নেই । এ কারণে বাংলাদেশে দলটির রাজনীতি করার অধিকার থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ওই দলের মধ্যে যারা ভালো মানুষ এবং দেশকে ভালোবাসেন, তারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী রাজনৈতিক ঠিকানা খুঁজে নেবেন। তবে ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশে আবার ফিরে আসবেÑএমন কল্পনা কাউকে না করার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাইয়ে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ করে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ যেন তাদের সবাইকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন। তাদের রক্তের কথা গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আজীবন স্মরণ রাখা হবে। তাদের রক্তের ঋণ শোধ করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। রাজনৈতিক সংস্কার ও গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, মানুষ ফ্যাসিবাদের পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই পরিবর্তনের পক্ষে গণভোটে রায় দিয়েছিল। সংবিধানে শুধু কিছু পরিবর্তন আনা বা ঘোষণাপত্রের বাধ্যবাধকতা পূরণ করার জন্য মানুষ গণভোটে রায় দেয়নি। মানুষ চেয়েছিল রাজনীতির পরিবর্তন, দেশ ও জনগণের কল্যাণে এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে আর কেউ ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ পাবে না। সরকারের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমার দলের সঙ্গে যারা দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের যন্ত্রণা ভোগ করেছেন এবং বর্তমানে সরকারে আছেন, তারা যেন অতীতের অভিজ্ঞতা ভুলে না যান। অতীত ভুলে গেলে কোনো লাভ হবে না। জামায়াত আমির বলেন, অতীতেও আমরা কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করিনি, এখনো করব না, ইনশা আল্লাহ। জনগণের জন্য, ন্যায় ও ইনসাফের একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য এবং সব হত্যাকা-ের খুনিদের বিচারের আওতায় আনার জন্য আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।
স্বাধীন দেশে প্রথম ক্রসফায়ার করেছেন শেখ মুজিব
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- ও ক্রসফায়ারের ইতিহাস শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল। বামপন্থি নেতা সিরাজ শিকদারকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের সূচনা হয়েছিল এবং শেখ মুজিবুর রহমান স্বয়ং সংসদে দাঁড়িয়ে তা নিয়ে দম্ভ প্রকাশ করেছিলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তাদের পুরো ইতিহাসই হত্যা, সন্ত্রাস ও দমন-পীড়নের ইতিহাস। স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় এসে শেখ মুজিবুর রহমান গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন এবং মাত্র চারটি বাদে দেশের সব গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আর স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ক্রসফায়ারের সংস্কৃতিও চালু করেছিলেন তিনি। সিরাজ শিকদারকে হত্যার পর সংসদে দাঁড়িয়ে দম্ভভরে বলা হয়েছিলÑ‘কোথায় সিরাজ শিকদার?’ অর্থাৎ বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ক্রসফায়ারের যে রক্তমাখা ইতিহাস, তা আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই এ দেশে শুরু হয়েছে।’ ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডির স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘সেদিন লগি-বৈঠা দিয়ে সাপের মতো পিটিয়ে মানুষ হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি আওয়ামী সন্ত্রাসীরা, লাশের ওপর উঠে নৃত্য করেছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন বর্বরোচিত ও পৈশাচিক ঘটনা বিরল। আওয়ামী লীগ মূলত কোনো রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি সন্ত্রাসী ও রক্তপিপাসু সংগঠন।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করতে শীর্ষ নেতাদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় হত্যা করা হয়েছে, শত শত নেতাকর্মীকে গুম ও খুন করা হয়েছে এবং দল নিষিদ্ধ করে নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এত জুলুম-নির্যাতনের পরও জামায়াতকে এ দেশের মাটি ও মানুষের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা যায়নি। বর্তমান সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে এটিএম আজহার বলেন, চব্বিশের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর যারা আবার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চায় কিংবা নব্য ফ্যাসিবাদের স্বপ্ন দেখে, এ দেশের সচেতন জনগণ তাদের সেই ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হতে দেবে না। তিনি অবিলম্বে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরসহ বিগত ১৫ বছরের সব গণহত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
২৮ অক্টোবর পুলিশ রহস্যজনকভাবে নিষ্ক্রিয় ছিল
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠার নারকীয় তা-বের সময় জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বারবার তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন করা সত্ত্বেও কেন তার সাড়া পাওয়া যায়নিÑজাতির সামনে সেই জবাব দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা যখন সারাদিন ধরে নিরীহ নেতাকর্মীদের ওপর বর্বর হামলা চালাচ্ছিল, তখন তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। বক্তব্যে মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ‘২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ছিল চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন। পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চারদলীয় জোটের একটি যৌথ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল এবং সেখান থেকেই বঙ্গভবনে গিয়ে পরবর্তী কেয়ারটেকার সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। অথচ হঠাৎ করে দুটি পৃথক সমাবেশ ডাকা হলোÑজামায়াত করল বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে, আর বিএনপি নয়াপল্টনে। কেন এই বিভাজন তৈরি করা হলো, তার পেছনে কী রহস্য ছিলÑতা জাতি জানতে চায়।’ সেদিনের নির্মমতার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সকাল থেকেই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা লগি-বৈঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে উত্তর গেটের মঞ্চ লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। আমাদের তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বারবার ফোন করা সত্ত্বেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাওয়া যায়নি। পল্টনে একের পর এক লাশ পড়ল, আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী রক্তাক্ত হলেন, অথচ সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ কেন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল?’
তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘জোট সরকারের শেষ সময়ে এসে বিএনপির ৪০ জনের মতো মন্ত্রী-এমপি দল ভেঙে আলাদা দল গঠন করেছিলেন। তাদের অনেকেই সে সময় এক-এগারোর প্রেক্ষাপট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল। অথচ আজ জামায়াতের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চলছে। জামায়াতকে নিঃশেষ করার কোনো ষড়যন্ত্রই অতীতে সফল হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।’ তিনি অবিলম্বে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডি, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকা-, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের গণহত্যাসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত সব মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করতে বিএনপির একটি অংশ জড়িত ছিল
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল মন্তব্য করেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে লগি-বৈঠার তা-ব চালিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে রাজপথে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রে তৎকালীন জোট সরকারের প্রধান শরিক বিএনপির একটি অংশ অবশ্যই জড়িত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের বর্বরতা সত্ত্বেও নয়াপল্টন থেকে কোনো ধরনের সহায়তা না দিয়ে জামায়াতকে ফাঁদে ফেলে ধ্বংস করার চক্রান্ত হয়েছিল। সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ছিল পৈশাচিকতা ও বর্বরতার এক কালো অধ্যায়। সেদিন বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সকাল ৮টা-৯টা থেকেই জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা লগি-বৈঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অথচ একই জোট সরকারের অংশ হয়েও নয়াপল্টনে বিএনপি আলাদা সমাবেশ ডেকেছিল। কেন সেদিন দুটি দলের সমাবেশ এক জায়গায় হলো না? কেন সারাদিন উত্তর গেটে আমাদের নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে লড়াই করলেন, রক্ত দিলেন, শহীদ হলেন; অথচ মাত্র কয়েক গজ দূরে নয়াপল্টনের অফিস থেকে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতার হাত বাড়ানো হলো না?’ তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘পুরো বিএনপি এই চক্রান্তের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও, তাদের একটি সুবিধাভোগী অংশ অবশ্যই আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল। সেদিন যারা নিশ্চুপ দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল, আজ তাদের আসল রূপ জনগণের কাছে উন্মোচিত হতে শুরু করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একই বিএনপি আজ আবারও জামায়াতকে কোণঠাসা ও নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সেদিনও জামায়াত রাজপথে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছিল, আর বিএনপি মাঠ ছেড়ে পালিয়েছিল।’ বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে কোনো ষড়যন্ত্র বা রক্তচক্ষু দেখিয়ে স্তব্ধ করা যাবে না। তিনি অবিলম্বে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডি, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকা-, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের আলেম নিধন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত সব গণহত্যার বিচার দ্রুত ট্রাইব্যুনালে নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
